
ইমরান হাসান, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনি হাওয়া বইছে ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের ভোটের মাঠে। প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে নির্বাচনি পরিবেশ। একাধিক প্রার্থী থাকলেও এই আসনে লড়াই হবে ত্রিমুখী। তবে, সামগ্রীক উন্নয়ন এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, তিনিই জনগণের ভোট পাবেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।
একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩ হাজার ২৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ১৭৯ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭০ জন।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয়জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে তিনজন হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আসাদুজ্জামান সোহেল এবং কাপ-পিরিচ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ আনোয়ার সাদাত।
এছাড়া জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকে মো. জহিরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকে মো. ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ এবং মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জি. মো. জয়নাল আবেদীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ছয়জন প্রার্থী থাকলেও মূলত তিন প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে নির্বাচনি মাঠ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন এবং এলাকার সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
হেভিওয়েট বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী। অতীত অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তার কারণে এই তিন প্রার্থীর ভোটের সমীকরণ জটিল আকার ধারণ করেছে। তবে জয়ের ব্যাপারে সবাই আশাবাদী।
ভোটারদের মতে, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যিনি কাজ করবেন, মানুষ তাকেই ভোট ও সমর্থন দেবেন। ফলে এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনাই বেশি।
রামপুরের তরুণ ভোটার মফিজুল ইসলাম বলেন, ত্রিশালের সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাশাপাশি প্রতিটি গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে। এসব সমস্যা নিরসনে যিনি দৃশ্যমান ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, ভোটাররা তাকেই নির্বাচিত করবেন।
ত্রিশাল পৌর এলাকার ভোটার মাসুদ রানা বলেন, একজন ভোটার হিসেবে আমি চাই, যিনি নির্বাচিত হবেন তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন। সন্তানের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, পরিবারের জন্য ভালো চিকিৎসা এবং তরুণদের জন্য কাজের সুযোগ—এই নিশ্চয়তাই আমাদের মূল প্রত্যাশা।
কাপ-পিরিচ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ আনোয়ার সাদাত বলেন, আমার পিতা সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আব্দুল খালেকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে ত্রিশালের সমস্যা ও সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার, সুশাসন ও টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মাঝে প্রচারণা চালাচ্ছি। সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ থাকলে জনগণ আমাকে সর্বোচ্চ ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন বলে আমি আশাবাদী।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আসাদুজ্জামান সোহেল বলেন, ত্রিশালের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো চলাচলের অনুপযোগী সড়কব্যবস্থা। মৎস্য, কৃষি ও ডেইরি খাতের উন্নয়ন, যানজটমুক্ত ত্রিশাল গড়তে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং চাঁদাবাজমুক্ত ত্রিশাল প্রতিষ্ঠা আমাদের অঙ্গীকার। জনগণ এবার হিসাব-নিকাশ করেই তাদের ভোট প্রদান করবেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন বলেন, সারাদেশে ধানের শীষের বিজয়ের মাধ্যমে বিএনপির সরকার গঠিত হবে।
ত্রিশালে বিপুলসংখ্যক রাস্তা-ঘাটের কাজ বাকি রয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ। এসব উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে সরকারদলীয় এমপি প্রয়োজন। উন্নয়নের স্বার্থে এই আসনের ভোটাররা ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করবেন, ইনশাআল্লাহ।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
পাইকগাছায় গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
পাইকগাছায় গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
বাকেরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত কারেন্ট জাল পুড়িয়ে...
বাকেরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত কারেন্ট...
সাপাহারে শিরন্টি ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহজাহান আলীর গণসংযোগ
সাপাহারে শিরন্টি ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহজাহান...
শেরপুর ডপস সদস্যদের মূল্যায়ন পরীক্ষা ও শিক্ষা উপকরণ...
শেরপুর ডপস সদস্যদের মূল্যায়ন পরীক্ষা ও...
শেরপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এমপি রাশেদের...
শেরপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে...
জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমদাদুল হক ইমদাদ: বেনাপোলে বইছে পরিবর্তনের...
জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমদাদুল হক ইমদাদ: বেনাপোলে...