পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীদের আয়কর অব্যাহতি বহালের দাবি চার সংসদ সদস্যের

প্রকাশিত: ১:৪৭ অপরাহ্ণ , ২২ জুন ২০২৬, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আয়কর অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখার দাবি জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বরাবর যৌথ আবেদন করেছেন তিন পার্বত্য জেলার তিন সংসদ সদস্য ও একজন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য। তারা আয়কর আইন, ২০২৩-এর ষষ্ঠ তফসিলের অংশ-১ এর অনুচ্ছেদ ১৯-এ প্রস্তাবিত সংশোধনী বাতিল করে বিদ্যমান কর অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (২১ জুন) অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া এক চিঠিতে পার্বত্য খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা, পার্বত্য রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, পার্বত্য বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মারমা এ দাবি জানান।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত অর্থবিলে আয়কর আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় সংশোধনী এনে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের বেতন থেকে আয় এবং আর্থিক সম্পদ থেকে আয়কে করযোগ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে আগামী ১ জুলাই থেকে এসব আয়ের ওপর কর আরোপিত হবে।

সংসদ সদস্যরা দাবি করেন, পার্বত্য অঞ্চলের অধিকাংশ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রধান জীবিকা জুমচাষ ও কৃষিকাজ। কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় তাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি, স্বাস্থ্যসেবা, সড়ক যোগাযোগ ও অন্যান্য মৌলিক নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রেও তারা এখনও তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা দেশের মোট ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রায় ৬০ শতাংশ। এ বাস্তবতায় তাদের জন্য বিদ্যমান আয়কর অব্যাহতি সুবিধা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

একই সঙ্গে আদিবাসীদের ব্যক্তি পর্যায়ের আয়ের পাশাপাশি সম্পূর্ণভাবে আদিবাসীদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান—যেমন ফার্ম, কোম্পানি, ব্যক্তিসংঘ, সমিতি ও সমবায় সমিতির আয়কেও কর অব্যাহতির আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। এতে পার্বত্য অঞ্চলে যৌথ বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গঠনে উৎসাহ সৃষ্টি হবে বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে।

চিঠিতে রাজনৈতিক দিকটিও উল্লেখ করে বলা হয়, সাম্প্রতিক নির্বাচনে পার্বত্য অঞ্চলের ভোটারদের উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছে বিএনপি। এ অবস্থায় কর অব্যাহতি সুবিধা সীমিত করা হলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এমতাবস্থায়, প্রস্তাবিত সংশোধনী বাতিল করে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান আয়কর অব্যাহতি বহাল রাখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ধারা যুগোপযোগীভাবে সংশোধনের জন্য অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন চার সংসদ সদস্য।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর