• অপরাধ শীর্ষ সংবাদ
  • মনিপুরি ললিতকলা একাডেমির উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে শিল্পীদের সম্মানী আত্মসাতের অভিযোগ

মনিপুরি ললিতকলা একাডেমির উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে শিল্পীদের সম্মানী আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশিত: ২:৪৬ অপরাহ্ণ , ১৪ আগস্ট ২০২৫, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 10 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

এম এ ওয়াহিদ রুলু,কমলগঞ্জঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অবস্থিত মনিপুরি ললিতকলা একাডেমির উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রভাস চন্দ্র সিংহের বিরুদ্ধে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় বৈচিত্র দিবস ২০২৫ (জুলাই পূর্ণজাগরণ অনুষ্ঠানমালা)-এ অংশ নেওয়া শিল্পীদের সম্মানী ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

সাতজন শিল্পীর স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২৬ জুলাই প্রভাস চন্দ্র সিংহ তাদের কমলগঞ্জ থেকে ঢাকায় নিয়ে যান এবং ফকিরাপুলের একটি হোটেলে অবস্থান করান। পরদিন বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠান শেষে হঠাৎ হোটেল বুকিং বাতিল করে রাতের খাবারের পর নিজ দায়িত্বে বাড়িতে যাবার  নির্দেশ দেন।

গভীর রাতে পরিবহন খোঁজার সময় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস. এম. শামীম আকতার তাদের দেখতে পেয়ে হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে দেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতি শিল্পীর জন্য যাতায়াত ও সম্মানী বাবদ বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং মাইক্রোবাস ভাড়ার জন্য ১৪ হাজার টাকা। কিন্তু প্রভাস চন্দ্র সিংহ তাদের যৌথভাবে মাত্র ২৪ হাজার ৫০০ টাকা দেন এবং সেখান থেকে ৭ হাজার টাকা পরিবহন খরচ হিসেবে জমা দিতে বলেন। এতে উল্লেখযোগ্য অর্থ আত্মসাত হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

তারা আরও অভিযোগ করেন, গত ১ বৈশাখের বাংলা নববর্ষ অনুষ্ঠানে শিল্পীদের জন্য নির্ধারিত ২ হাজার টাকা সম্মানীও কম পরিমাণে প্রদান করা হয়। স্থানীয় অনুষ্ঠানগুলোতেও সম্মানী ভাতা অনেক সময় দেওয়া হয় না, বরং ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন তারা।

অভিযোগকারী ধীরেন কুমার সিং বলেন, “অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আসমা সুলতানা নাসরীনের সামনে প্রভাস চন্দ্র সিংহ ১৪ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এরপর প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো পদক্ষেপের খবর পাইনি।”

অভিযোগ অস্বীকার করে প্রভাস চন্দ্র সিংহ বলেন, “এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন অভিযোগ। অভিযোগকারীরা নিজের পদবীও গোপন করেছেন।”

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর জানান, অভিযোগটি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আসমা সুলতানা নাসরীন বলেন, “উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই চলছে, তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর