শাহজাদপুর সিংহভাগ ইটভাটার ছাড়পত্র নেই

প্রকাশিত: ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ , ১৪ জানুয়ারি ২০২৫, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
২টি ইউনিয়নে কৃষি জমিতে গড়ে উঠেছে বেশিরভাগ ইটভাটা অধিকাংশ ইটভাটার পাশেই রয়েছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।ছবি- সময়ের আবর্তন

সিরাজগঞ্জর শাহজাদপুর বিস্তর্ণ ফসলের মাঠ জুড়েই ইটভাটা। এ উপজেলায় ১৭টি ইটভাটার মধ্যে ১৪টির কােন বৈধ কাগজপত্র নেই। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে মাত্র তিনটি ইটভাটার ছাড়পত্র মিলেছে। এছাড়া অধিকাংশ ইটভাটার পাশেই রয়েছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তিন ফসলি ও দুই ফসলি জমি পুকুর কেটে ও উর্বর জমির টপ সয়েল মাটি কেটে অবাধে এসব ভাটায় পােড়ানাে হচ্ছে ইট।

প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকতাদের ম্যানেজ করে বছরর পর বছর চলছে এসব অবৈধ ইটভাটা। মাঝে মাঝে লােক দেখানাে অভিযান চললেও বন্ধ হয়নি একটি ইটভাটাও। এত ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকতারা বলছেন লােকবলের অভাবে সঠিকভাবে তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না।

তবে খুব শিগগির পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অভিযান চালানাে হবে। সিরাজগঞ্জ জেলার পরিবেশ অধিদপ্তর তথ্যমতে শাহজাদপুর উপজেলায় ১৭টি ইটভাটা চালু রয়েছে। তিনটি ইটভাটার ছাড়পত্র থাকলেও বাকি ১৪টি ইটভাটার বৈধ কােন কাগজপত্র নেই।

এলাকাবাসীদের অভিযােগ প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকতার্দর ম্যানেজ করেই চলছে অবৈধ ইটভাটা। এসব ইটভাটার সবগুলােই তিন ও দুই ফসলি জমির উপর গড়ে উঠেছে। এছাড়া প্রায় ৮টি ইটভাটার পাশেই রয়েছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

উপজেলার গাড়াদহ, মাড়ককােলা, দুগার্দহ, পুরান টেপরি, মশিপুর, ভট্রগাঁড়াদহ, মাদলা, হরিরামপুর, কায়েমপুর সহ চারটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি জায়গায় একাধিক ইটভাটা ঘুরে দেখা যায়, এসব ইটভাটার আশেপাশে ঘনবসতি, ফসলের মাঠ ও একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। ইটভাটায় নিম্মানর কয়লার ব্যবহার লক্ষ্য করা গছ।

এছাড়া নদীর পাড়ের মাটিও যাচ্ছে ইট ভাটায়। আঞ্চলিক ও গ্রামীন সড়ক গুলাে দিয়ে মাটির ট্রাক, ট্রাক্টর ও ট্রলি চলাচল করায় রাস্তা গুলাের আয়ু কমছে। শাহজাদপুরর ইটভাটার মালিক সমিতির সেক্রেটারি এন জেড বি ব্রিকস এর মালিক মােঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, নতুন ইটভাটা করার সময় স্থানীয় কৃষি অফিসের ছাড়পত্র নিতে হয়।

তিনি আরাে বলেন-শাহজাদপুরে আমার সহ মােট তিনটি ইটভাটার সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র পেয়েছি। বাকি ইটভাটার মালিকেরা বলতে পারবেন তারা কিভাবে ভাটায় ইট পােড়াচ্ছেন।

সরেজমিন কায়েমপুর ইউনিয়নের হরিমারপুর গ্রামের নাম প্রকাশ অনিছুক ব্যক্তি জানান, উপজেলা কৃষি অফিস, ভুমি অফিস ও উপজেলা নিবার্হী অফিস ম্যানেজ করে অবৈধ ইটভাটার মালিকেরা বছরের পর বছর ব্যবসা করছেন।

এদিক জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক তুহিন আলম জানান, সিরাজগঞ্জ তার নতুন কর্মস্থল । তাই ইটভাটা নিয়ে তার তেমন তথ্য জানা নেই। তবে তিনি জানান, নথি ঘেটে যতটুকু জেনেছি, শাহজাদপুর উপজলায় ১৭টি ইটভাটা থাকলেও মাত্র তিনটি ইটভাটার ছাড়পত্র পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে দেওয়া হয়েছে। অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রযােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে তিনি জানান।

শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকতার জেরিন আহম্মদ জানান, ইটভাটা স্থাপনের জন্য কৃষি অফিস থেকে ছাড়পত্র নেয়ার বিধান থাকলেও কেউ তাদের কাছে আসার প্রয়ােজন মনে করেন না। তিনি জানান, জেলা প্রশাসক ইটভাটার লাইসেন্স দেন। তাই সেখানই সবাই যােগাযােগ করে থাকেন।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার মােঃ কামরুজ্জান এর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ইটভাটার লাইসেন্স বিষয়ে জেলা প্রশাসন অফিস ও পরিবেশ অধিদপ্তর দেখভাল করে থাকেন। তিনি স্বীকার করেন, শাহজাদপুর যতগুলাে ইটভাটা রয়েছে সেগুলাের সবই উর্বরা জমিত স্থাপন করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর