
রমজান মাসের প্রথম দিকেই রাজধানীর ফলের বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। নবম দিনেও তরমুজ কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইফতারের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ কলা, মাল্টা, আপেল, আঙুরসহ প্রায় সব ধরনের ফলই চড়া দামে বিক্রি হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বাড়তি খরচের চাপে পড়েছে।
শনিবার রাজধানীর নিউমার্কেট ও আজিমপুর এলাকায় বাজার ঘুরে দেখা যায়, স্থায়ী দোকানের পাশাপাশি অস্থায়ী ফলের দোকানও বসেছে। তবে সবখানেই খুচরা দামে বাড়তি চাপ স্পষ্ট।
দেশি ফলের মধ্যে কলার দাম ডজনপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে চাঁপা কলা ডজন ১০০ টাকা, সবরি কলা ১৬০–১৮০ টাকা এবং বাংলা কলা ১৪০–১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেয়ারা আকারভেদে ১০০–১৫০ টাকা কেজি এবং আনারস প্রতি পিস ৪০–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আগাম তরমুজের বাজারও চড়া। মৌসুম পুরোপুরি শুরু না হলেও বাজারে আসা তরমুজ ৭০–৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ছোট তরমুজ তুলনামূলক কম দামে মিললেও মাঝারি ও বড় আকারের তরমুজের দাম বেশি।
বিদেশি ফলের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। মাল্টা ৩১০–৩৪০ টাকা কেজি, আপেল ৩৩০–৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবুজ আঙুর ৪২০–৪৫০ টাকা এবং কালো আঙুর প্রায় ৫৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। খেজুর মানভেদে ৫০০ থেকে ১,৫০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
শুধু ফল নয়, ইফতার সংশ্লিষ্ট কিছু সবজির দামও বেড়েছে। লেবুর দাম কয়েক সপ্তাহে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে সাধারণ মানের লেবু ৬০–৮০ টাকা হালি এবং বড় লেবু ৮০–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ১০০–১৪০ টাকা কেজি এবং দেশি শসা ৮০–১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহে বিঘ্ন, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং পাইকারি বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে। আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে তারা জানান।
নিউমার্কেটের এক ফল বিক্রেতা জানান, তরমুজের মৌসুম এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে অন্যান্য ফলের দাম রোজার আগ থেকেই বেশি এবং পুরো মাস জুড়েই তা স্থিতিশীল নাও থাকতে পারে।
অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান এলেই পণ্যের দাম বেড়ে যায়, যা প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। অনেক ফলের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষদের জন্য ইফতারের প্রয়োজনীয় ফল কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এক দোকানকর্মচারী জানান, গত বছর একই টাকায় যেখানে দুই থেকে তিন ধরনের ফল কেনা যেত, এবার সেই টাকায় একটি ফল কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। আজিমপুরের এক বাসিন্দা বলেন, গত সপ্তাহে যে তরমুজ ৫০ টাকা কেজি ছিল, সেটিই এখন ৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। রমজানের শুরুতেই এমন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
মেক্সিকোতে ঝড়ে মৃত বেড়ে চার
মেক্সিকোতে ঝড়ে মৃত বেড়ে চার
চীন-রাশিয়া ইরানকে সাহায্য করছে না: ট্রাম্প
চীন-রাশিয়া ইরানকে সাহায্য করছে না: ট্রাম্প
কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ...
কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে জাতীয়...
প্রবাসীদের সম্পদ রক্ষায় বিশেষ আদালত গঠনের ভাবনা
প্রবাসীদের সম্পদ রক্ষায় বিশেষ আদালত গঠনের...
সাফের আগে বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ
সাফের আগে বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ
ফুলবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে ঝিনুকের চুন তৈরির শিল্প
ফুলবাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে ঝিনুকের চুন তৈরির...