• অপরাধ খুলনা
  • নড়াইলে ‘টিকটকে আসক্ত’ স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

নড়াইলে ‘টিকটকে আসক্ত’ স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

প্রকাশিত: ৪:০৩ পূর্বাহ্ণ , ১৬ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় ‘টিকটকে আসক্ত’ স্ত্রী সুমনা ফেরদৌসিকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি অভিযুক্ত স্বামী লিমন মল্লিকের (২৭)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন তার স্ত্রী সুমনাকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।

গতকাল সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার দিঘলিয়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত লিমনকে আটক করে লোহাগড়া থানা পুলিশ।
লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সুমনা ফেরদৌসী লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী, তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক লিমন মল্লিক জানায়, লিমন চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি কাঠ কাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালান।

তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী সুমনা টিকটকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পোস্ট করার পাশাপাশি অপরিচিত পুরুষদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করতেন। বিষয়টি নিয়ে তাদের পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো।

তবে সুমনা এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে করবে না বলে স্বামী লিমনের কাছে ওয়াদা করেন। সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৮টার দিকে আবারও টিকটিকের ঘটনা নিয়ে আবারও তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে স্বামী লিমনের আঘাতে সুমনা রক্তাক্ত অবস্থায় মাঠিতে পড়ে যান।

পরে সুমনাকে তার স্বামী শ্বাসরোধে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে রাখেন।

পুলিশ আরও জানায়, সোমবার সকাল ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো কাজে বেরিয়ে পড়েন লিমন। স্বাভাবিকভাবে সারাদিন কাজ শেষে বিকেল ৫টার পর বাড়িতে এসে ঘরের দরজা খুলে নিজেই চিৎকার চেঁচামেচি করে কান্নাকাটি শুরু করেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয় যে, এটি কোনো আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ড। পরে সোমবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিমনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার দায় স্বীকার করে।

লোহাগড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, অভিযুক্ত লিমনকে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী সুমনাকে হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।

মূলত হত্যার পর আত্মহত্যা দেখাতেই সুমনাকে হত্যা করে ঘরে আড়ায় ঝুলিয়ে দিয়েছিল। নিহতের পরিবারের কাছে খবর পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর