দারিদ্র্য আর প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে চায়ের দোকানে স্বপ্ন বুনছেন শামীম

প্রকাশিত: ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ , ২৪ জুন ২০২৬, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের বালিপাড়া গ্রামের একটি পরিবারের চার সদস্য জন্মগতভাবে বাক-প্রতিবন্ধী। কথা বলতে না পারলেও জীবনযুদ্ধ থেমে নেই তাদের। চরম দারিদ্র্য আর নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে না নিয়ে পরিশ্রম করেই পরিবার চালানোর চেষ্টা করছেন পরিবারের বড় ছেলে শামীম মিয়া (৩৮)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামীম মিয়া জন্ম থেকেই বাক-প্রতিবন্ধী। পরবর্তীতে তার ছোট ভাই সুমন মিয়া ও ছোট বোন সাকিনও একই সমস্যায় আক্রান্ত হন। পরে সাকিনের ছেলে সাজ্জাদ মিয়াও জন্মগতভাবে বাক-প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেয়। ফলে বর্তমানে একই পরিবারের চারজন বাক-প্রতিবন্ধী সদস্য মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

শামীম মিয়ার সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। অপরদিকে সুমন মিয়ার সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। বাক-প্রতিবন্ধী হওয়ায় সাকিনের দাম্পত্য জীবন টেকেনি। স্বামীর সংসার থেকে ফিরে এসে তিনি এখন ছেলে সাজ্জাদকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই বসবাস করছেন।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য শামীম মিয়া। বাক-প্রতিবন্ধী হলেও তিনি ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নেননি। একটি ভাড়া দোকানে চা স্টল দিয়ে কাজ করে যে আয় হয়, তা দিয়েই পরিবারের খরচ চালানোর চেষ্টা করেন। তবে সীমিত আয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটাতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। নিজেদের থাকার জন্য একটি ঘর ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদও নেই পরিবারের।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা বাজার রেলওয়ে স্টেশনের সামনে একটি ছোট টিনের ঝুপড়ি দোকানে চা ও পান বিক্রি করছেন শামীম মিয়া। কথা বলতে না পারলেও চা তৈরিতে তার দক্ষতা চোখে পড়ার মতো। হাসিমুখে ক্রেতাদের জন্য আদা ও লেবু দিয়ে লাল চা বানিয়ে দেন। ইশারা-ইঙ্গিতেই ক্রেতাদের চাহিদা বুঝে সেবা দেন তিনি।

শামীমের ছোট্ট চায়ের দোকানে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আনাগোনা থাকে। স্বল্প আয়ের এই দোকানই তার পরিবারের একমাত্র অবলম্বন।

দোকানের পাশের একটি বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন শামীমের বাক-প্রতিবন্ধী ছোট বোন সাকিন। কাজের ফাঁকে তিনি নিয়মিত ভাইয়ের দোকানে এসে খোঁজখবর নেন। ভাই-বোনের এই নীরব যোগাযোগ যেন ভাষাহীন এক গভীর মমতার বন্ধন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রতিবেশীরা জানান, মাত্র ৫ টাকা কাপ দরে চা বিক্রি করে সংসার চালাতে শামীমকে প্রতিদিন কঠোর সংগ্রাম করতে হয়। তারপরও তিনি কখনো কারও কাছে হাত পাতেন না। স্থানীয়দের সহায়তায় একটি ভাড়া দোকানে ব্যবসা করে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি খাস জমিতে স্থায়ীভাবে একটিদোকানের ব্যবস্থা কিংবা সরকারি সহায়তা পেলে শামীমের পরিবারের জীবনমান কিছুটা হলেও উন্নত হতে পারে।

এ বিষয়ে বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম বলেন, একই পরিবারের চারজন বাক-প্রতিবন্ধী থাকার বিষয়টি তার জানা ছিল না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।