
শাহীন সোহেল চৌগাছাঃ বাড়ির ছাদ মানেই যে শুধু কাপড় শুকানো বা অলস সময় কাটানোর জায়গা নয়—তা আরও একবার প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যশোরের চৌগাছার উদ্যমী যুবক সোহেল রানা। সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ও ভালোবাসায় তিনি গড়ে তুলেছেন ২১ প্রজাতির বিদেশি ও দেশি ডালিম ও বেদনার এক বৈচিত্র্যময় ছাদ বাগান।
চারা রোপণের প্রথম বছরেই গাছে গাছে এসেছে প্রচুর ফল, যা দেখে এ বছরই বাম্পার ফলন ও বড় ধরনের বাণিজ্যিক সাফল্যের আশা করছেন এই তরুণ বাগানপ্রেমী।
বাগান ঘুরে দেখা যায়, টব ও ড্রামে সাড়িবদ্ধভাবে সাজানো প্রতিটি গাছেই ফুল ও ফলে ভরা। এই মালিয়া গার্ডেন ঢুকলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। দেশি জাতের পাশাপাশি সেখানে স্থান পেয়েছে বিদেশি জাতও যেমন থাই, অস্ট্রেলিয়ান বিগ, mc1,mc 2, মেক্সিকান, সুপার ভাগুয়া, ফুলে আরাক্তা, Golosa rosabaya, রিমন, জি এম টু, Toms রেড, ফিলিস্তিনি, গ্রানাডা, সিঁদুরি ভাগোয়া, Sct ভাগুয়া, গনেশ, এভার সুইট, রুবি রেড, কেদার, মৃদুলা, ইন্দোনেশিয়ান ব্লাক আরও মিসরীয় ভাগোয়া, তিউনিসিয়ান রেড, স্প্যানিশ কন্দাহার, ইন্ডিয়ান গণেশ, অরুনা, মিধুলসহ বিরল ও অম্ল-মিষ্টি স্বাদের ২১টি ভিন্ন জাতের আনার ও বেদনা।
দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা এসব চারার যত্ন নিচ্ছেন তিনি পরম মমতায়। সম্পূর্ণ জৈব সার ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে পরিচর্যার ফলে চারাগুলো অল্প সময়েই ডালপালা মেলে তরতাজা হয়ে উঠেছে এবং গাছে ধরেছে লাল-সবুজ বৈচিত্র্যময় ফল।
সোহেল রানা জানান, “শখের বশে ডালিম গাছ লাগানো শুরু করলেও পরবর্তীতে এটি নিয়ে বড় কিছু করার পরিকল্পনা করি। পাশাপাশি বাড়ির আঙিনায় বিভিন্ন ফল চাষ করি। আঙ্গুর, ড্রাগন, তিন ফল, অ্যাভা কার্টুন, সবেদা, কদবেলসহ আরও ১০ রকম ফল। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উন্নত জাতের আনার ও বেদনার জাত সংগ্রহ করে ছাদে রোপণ করি।
প্রথম বছরেই যেভাবে ফলন এসেছে, তাতে আমি দারুণ আশাবাদী। সঠিক যত্ন ও পরিচর্যা পেলে আমাদের দেশের জলবায়ুতেও যে বিদেশি জাতের মানসম্পন্ন ডালিম ও বেদনা চাষ সম্ভব—আমার বাগান তার বাস্তব প্রমাণ।”
ছাদ বাগানের এই বিপুল সাফল্য থেকে উৎসাহিত হয়ে সোহেল রানা পাশে গড়ে তুলেছেন ফল চারার এক আধুনিক নার্সারি। যারা নিজেরাও ছাদে বা জমিতে বিদেশি মানসম্মত জাতের ডালিম ও ফলের চাষ করতে চান, সোহেল রানা তাদের মানসম্মত চারা সরবরাহ করছেন।
একই সাথে দিচ্ছেন বাগান তৈরি ও ফল গাছের পরিচর্যা সংক্রান্ত নানা পরামর্শ। দেশি জাতের পাশাপাশি সেখানে স্থান পেয়েছে বিদেশী জাত যার প্রতি পিচ আনার চারা এখন মাত্র ৩০০ টাকা পিছ।
উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা সোহেল রানার এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে জানান, পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এবং শহরের ছাদে সবুজায়ন বাড়াতে সোহেল রানার এই ২১ প্রজাতির ডালিমের বাগান একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। নতুন উদ্যোক্তারা তার নার্সারি থেকে সঠিক জাতের চারা সংগ্রহ করে ডালিম চাষে আগ্রহী হলে তা দেশের ফল উৎপাদনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগের প্রতিনিধি ও সাধারণ দর্শনার্থীরা প্রায়ই সোহেল রানার এই বাগান পরিদর্শনে আসছেন। ফলনে ভরা ছাদ বাগান দেখে অনেকে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এবং নিজেদের ছাদে বা পতিত জমিতে এমন বাগান তৈরির পরামর্শ নিচ্ছেন। ভবিষ্যতে তার নার্সারি আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে পুষ্টিকর ফল চাষে উদ্বুদ্ধ করাই এখন সোহেল রানার প্রধান লক্ষ্য।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, সোহেল রানার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ছাদ কৃষির মাধ্যমে ফল উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাচ্ছে। তাঁর এই সফলতা এলাকার অন্যান্য তরুণদেরও বাণিজ্যিক ছাদ বাগান গড়ে তুলতে পথ দেখাবে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
শেরপুরের বনভূমিকে বন্যহাতির নিরাপদ আবাস-’ল হিসেবে গড়ে তোলার...
শেরপুরের বনভূমিকে বন্যহাতির নিরাপদ আবাস-’ল হিসেবে...
জয়পুরহাটে সনাতন ধর্মের শ্রমিকদের মাঝে পূজার উপহার বিতরণ
জয়পুরহাটে সনাতন ধর্মের শ্রমিকদের মাঝে পূজার...
রাতের আঁধারে জবাই করা গরু ভ্যানে পরিবহন! ক্ষেতলালে...
রাতের আঁধারে জবাই করা গরু ভ্যানে...
শিক্ষাবান্ধব ও সমাজসেবক ইমদাদের উপর আস্থা পৌরবাসীর
শিক্ষাবান্ধব ও সমাজসেবক ইমদাদের উপর আস্থা...
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ও যুব উন্নয়নের পরীক্ষা স্থগিত
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ও যুব উন্নয়নের পরীক্ষা...
চাঁদ দেখা কমিটির সভা রোববার
চাঁদ দেখা কমিটির সভা রোববার