হার না মানা রুবেলের প্রয়োজন একটি কর্মসংস্থান

প্রকাশিত: ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ , ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 month আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

শাহরিয়ার মিল্টন , শেরপুরঃ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দমিয়ে রাখতে পারেনি মো. রুবেল মিয়ার স্বপ্নকে। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রমে এগিয়ে গেছেন পড়াশোনায়। মাত্র দুই বছর বয়সে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই পা অচল হয়ে যায় তার। এরপর থেকেই স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না তিনি। হামাগুড়ি দিয়ে কিংবা কখনো বাবার কাঁধে চড়ে পথ চলতে হয়েছে তাকে।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের পূর্ব ঘুঘরাকান্দী গ্রামের বাসিন্দা রুবেল মিয়া। তার বাবা ইব্রাহিম মিয়া ও মা প্রয়াত ময়না বেগম। নিজ বাড়ির পাশের ব্র্যাক স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করেন রুবেল।

এরপর ২০১৮ সালে উত্তর নাকশী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০২০ সালে হাজী নূরুল হক নন্নী-পোড়াগাঁও মৈত্রী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।

সর্বশেষ ২০২৬ সালে নালিতাবাড়ী সরকারি নাজমুল স্মৃতি কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স সম্পন্ন করেছেন তিনি। তবে রুবেলের এই শিক্ষাযাত্রা মোটেও সহজ ছিল না।

এসএসসি পাসের আগেই মাকে হারান তিনি। মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হলেও বাবার সহযোগিতায় থেমে থাকেনি তার পড়াশোনা। রুবেল নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে ছাত্রজীবনেই হাঁস-মুরগি পালন করেছেন।

পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা দিয়ে পড়াশোনার ব্যয় মেটানোর চেষ্টা করেছেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে থামাতে পারেনি, বরং শিক্ষাকে হাতিয়ার করে নিজের জীবন বদলের স্বপ্ন দেখেছেন তিনি।

এখন রুবেলের শিক্ষাজীবনের একটি অধ্যায় শেষ হয়েছে। সামনে তার স্বপ্ন—নিজের পায়ে দাঁড়ানো, পরিবারের পাশে থাকা এবং সমাজের বোঝা না হয়ে একজন স্বাবলম্বী মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকা।

কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে চাকরি কিংবা উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নিজের যোগ্যতা ও সক্ষমতা অনুযায়ী একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন রুবেল।

তার বিশ্বাস, একটি সুযোগ পেলেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে নিজেকে সমাজের একজন স্বাবলম্বী মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন তিনি।

কলসপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, “হার না মানা এক যুবক রুবেল। জন্মের পর থেকেই হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করে পড়াশোনা চালিয়ে অনার্স সম্পন্ন করেছেন।

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যতটুকু সম্ভব তাকে সহযোগিতা করেছি। জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ করব, তার জন্য যেন একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।”

এ বিষয়ে শেরপুর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “প্রতিবন্ধী রুবেল সম্পর্কে আমি জেনেছি। তার কম্পিউটার জানা থাকলে তাকে একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করব।”

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর