শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সন্মাননা জানালেন মেয়র প্রার্থী ইমদাদ

প্রকাশিত: ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ , ৩ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 week আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীন:- মেধা, পরিশ্রম ও অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বেনাপোল পৌরসভার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, বৃত্তি প্রদান এবং গর্বিত মায়েদের ক্রেস্ট প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর, ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০ টায় বেনাপোল পৌর বিয়ে বাড়িতে আনন্দঘন ও জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

​আসন্ন বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী, যশোর জেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও শার্শা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ-এর বিশেষ উদ্যোগে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেনাপোল পৌর বিএনপি’র সহ-সভাপতি মো. শাহাবুদ্দিন।

​সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও যশোর-৮৫/১ (শার্শা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,বেনাপোল পৌর বিএনপি’র সহ-সভাপতি নাসিমুল গনি বল্টু,সহ-সভাপতি সাহাদুর রহমান খোকন,সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মেহের উল্লাহ,যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম রেজা,সাংগঠনিক সম্পাদক আহাদ আলী,শার্শা উপজেলা বিএনপি’র সহ-সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন আহম্মেদ এবং শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক আল মামুন বাবলু।

প্রধান অতিথি মফিকুল হাসান তৃপ্তি বক্তব্যের শুরুতে অনুষ্ঠানের আয়োজক—যশোর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ও শার্শা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইমদাদুল হককে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান। একইসাথে উক্ত এলাকার কৃতী শিক্ষার্থী, যারা জিপিএ-৫ পেয়েছে, তাদের অভিনন্দন, সংবর্ধনা ও শুভকামনা জানান।

তিনি উপস্থিত সকলকে কিছুটা সময় দেওয়ার এবং ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং নেতা-কর্মীদের সহযোগিতায় দ্রুতই বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।

বিএনপি (শহীদ জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের দল) অতীতে যেমন দেশের উন্নয়নে ভালো কাজ করেছে, আগামীতেও মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
​
​অন্যায় ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলেন।
​
দলীয় নির্দেশনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সৎভাবে দেশ গড়ার স্বপ্ন এবং তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী নেতা-কর্মীদের সৎ থেকে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও বৃক্ষরোপণসহ সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। শিক্ষা শুধু ভালো ফলাফল বা জিপিএ-৫ পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সততা, মানবিকতা এবং দেশপ্রেমই হলো আসল শিক্ষা।

সন্তানদের কেবল প্রথাগত পড়াশোনায় আবদ্ধ না রেখে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলীতে বলীয়ান করে গড়ে তুলতে হবে। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
​
দেশের তরুণ সমাজ যাতে সুশিক্ষিত হয়ে নিজেদের, এলাকার এবং সামগ্রিকভাবে দেশের কল্যাণে অবদান রাখতে পারে—সেই সব কাজের প্রতি দৃস্টিগোচর করার নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানান। সব শেষে সবাইকে শুভকামনা জনিয়ে প্রধান অতিথি তার বক্তব্য শেষ করেন।

​অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা ইমদাদুল হক ইমদাদ বলেন, “এই সাফল্য শুধু কৃতী শিক্ষার্থীদের নিজের নয়; এটি তাদের পরিবার, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গর্ব। আগামী দিনের শিক্ষাজীবনে তাদের উৎসাহ ও উদ্দীপনা যোগাতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

পাশাপাশি সন্তানদের এই অনন্য সাফল্যের পেছনে যেসব মায়েদের ভূমিকা অনস্বীকার্য, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতি জানাতেই আমরা ‘গর্বিত মা সম্মাননা’ ও ক্রেস্ট প্রদানের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি মফিকুল হাসান তৃপ্তি’র কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,​আমার প্রাণপ্রিয় নেতা জননেতা মফিকুল হাসান তৃপ্তি আমাকে সবসময়
ভালো কাজের সাথে থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

আজকের এই অনুষ্ঠানটি’র ব্যাপারেও আমি তার পরামর্শ নিয়েছি,এর জন্য সকল সময় তার মঙ্গল কামনা করি। ​আপনারা দোয়া করবেন আজকের যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান করেছি, এ ধরনের অনুষ্ঠান যেন সবসময় প্রতি বছরই ধারাবাহিকভাবে করতে পারি যারা এধরনের রেজাল্ট করবে তাদের যদি কেউ আর্থিকভাবে অসচ্ছল থাকে আমি আমার নিজ উদ্যোগে তাদেরকে সহযোগিতা করতে চাই।

অপরদিকে,অনেক শিক্ষার্থী লেখাপড়ায় ভাল রেজাল্ট করতে পারে না অথচ খেলাধুলায় খুবই পারদর্শী আমি তাদেরকেও সহযোগীতা করতে চায়। কারণ,খেলার মাধ্যমেও পরিবারের এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করা সম্ভব।”

​অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ কৃতী শিক্ষার্থীদের ৪০ জনের  হাতে সংবর্ধনা স্মারক ও বৃত্তির অর্থ তুলে দেন এবং একই সাথে শিক্ষার্থীদের মায়েদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট হস্তান্তর করেন। পরিশেষে শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

মন্তব্য লিখুন