​প্রচারণার ৪র্থ দিন: ৪নং ওয়ার্ডে ইমদাদের জনপ্রিয়তার জোয়ার

প্রকাশিত: ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ , ১৬ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 week আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীন:-আসন্ন বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত শহর বেনাপোলে নির্বাচনী আমেজ এখন তুঙ্গে। পৌরসভাকে একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও মডেল নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে দিন-রাত এক করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তরুণ যুবদল নেতা, প্রখ্যাত ক্রীড়া সংগঠক ও বিশিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ।

​আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ ৪নং ওয়ার্ডের (কাগজপুকুর-কাগমারী) গ্রামে এক ব্যতিক্রমী গণসংযোগে অংশ নেন তিনি। ৪নং ওয়ার্ডে প্রচারণার আজ ছিল ৪র্থ দিন। বেনাপোল-যশোর মহাসড়কের বুক চিরে থাকা এই ওয়ার্ডটিতে ইমদাদুল হক ইমদাদ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে ঘরে ঘরে যান, লিফলেট বিতরণ করেন এবং সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেন।

​প্রচারণাকালে মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ ভোটারদের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি জানতে চান, তিনি নিজে বা তার কোনো কর্মী কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত কি না। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন:
*বেনাপোল পৌরসভাকে চিরতরে সন্ত্রাস, দখলদারি ও চাঁদাবাজমুক্ত শান্তির নীড়ে পরিণত করা।

*শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং কৃতি শিক্ষার্থী ও তরুণদের মেধা বিকাশে সার্বিক সহায়তা করা (যার অংশ হিসেবে ৩ অক্টোবর কৃতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সম্মাননার আয়োজন করা হয়েছিল)।
*ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট সংস্কার, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং জলজট দূর করে নাগরিক দুর্ভোগ লাঘব করা।
*ক্রীড়া ও সংস্কৃতির প্রসারের মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করা।
* সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌরসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং নিজেকে ‘শাসক’ নয়, জনগণের ‘সেবক’ হিসেবে নিবেদিত রাখা।
​
৪র্থ দিন ​কাগজপুকুর-কাগমারী গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা গণসংযোগের সময় আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়:
একজন মেয়র প্রার্থী নিজেই যখন এসে জিজ্ঞেস করেন তিনি বা তার লোকজন কোনো চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসীর সাথে যুক্ত কি না, এটি ভোটারদের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
​
ঘরে ঘরে পৌঁছালে বয়োজ্যেষ্ঠরা তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে দোয়া করেন এবং নারী-শিশুরা তাকে কাছে পেয়ে উৎফুল্লতা প্রকাশ করেন। এ সময় ইমদাদুল হক শিশুদেরকে চকলেট বিতরণ করেন। ভোটাররা জানান, দীর্ঘদিনের ড্রেনেজ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অবহেলা দূর করতে ইমদাদুল হক ইমদাদের মতো একজন সৎ ও উদ্যমী ব্যক্তিত্বকেই তারা যোগ্য প্রতিনিধি মনে করছেন।
​
​গত ৩ মাস ধরে প্রতিদিন ধারাবাহিকভাবে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের প্রতিটি গ্রাম, পাড়া ও মহল্লায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন ইমদাদুল হক ইমদাদ। এই দীর্ঘ সময়ের নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতি ও সামাজিক কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে:
​* ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে দিনমজুর, তরুণ থেকে প্রবীণ—সব শ্রেণির মানুষের কাছে তিনি এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে।
* গত ৩ অক্টোবরের সফল কৃতি শিক্ষার্থী সম্মাননা অনুষ্ঠান সহ তার বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ প্রমাণ করেছে যে তিনি কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। ভোটারদের মতে, তার দেওয়া অঙ্গীকারগুলো কোনো মুখরোচক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাস্তবসম্মত।
*৯টি ওয়ার্ডের সাধারণ ভোটারদের মনোভাব বিশ্লেষণ করে স্পষ্ট বোঝা যায়, আসন্ন নির্বাচনে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ তাকেই তাদের অভিভাবক ও মেয়র হিসেবে দেখতে চান এবং ব্যালটের মাধ্যমে তাকে বিজয়ী করতে প্রস্তুত।

প্রচারণাকালে ভোটারদের উদ্দেশ্যে মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ বলেন,”মানুষের ভালোবাসা ও দোয়াই আমার পথচলার মূল শক্তি। আমি কোনো ক্ষমতার লোভ থেকে নয়, বরং আমার জন্মভূমি বেনাপোলের মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে একটি সুন্দর ও সুশাসিত পৌরসভা গঠন করতে চাই।
​বেনাপোলের মাটি ও মানুষ আমার শিকড়। এই সীমান্ত শহরের অলিগলিতে আমার বেড়ে ওঠা, আপনাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা। আমি আজ কোনো শাসক হওয়ার বড় কোনো স্বপ্ন নিয়ে আপনাদের দুয়ারে আসিনি, এসেছি আপনার ঘরেরই সন্তান ও ভাই হিসেবে একটুখানি ভালোবাসা আর দোয়া চাইতে। ​গত তিন মাস ধরে আমি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায়, প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়েছি।

আমার মা-বোনেরা যখন আমাকে সন্তানের মতো বুকে জড়িয়ে ধরে দোয়া দিয়েছেন, আমার প্রবীণ মুরুব্বিরা যখন স্নেহের হাত মাথায় রেখেছেন, আর তরুণ ভাইয়েরা যখন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে—আমার চোখ ভিজে এসেছে। আপনাদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসার কাছে আমি চিরঋণী।

​আমার স্পষ্ট অঙ্গীকার—আমাদের প্রিয় এই বেনাপোল পৌরসভায় কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারি কিংবা মাস্তানির স্থান হবে না। আমি কোনো ক্ষমতার লোভ থেকে মেয়র পদপ্রার্থী হইনি; আমি চাই আমাদের সন্তানরা নিরাপদে স্কুলে যাক, তরুণদের হাতে মাদকের বদলে খেলাধুলার সরঞ্জাম ও কাজের সুযোগ থাকুক, আর আমার মা-বোনেরা যেন নির্দ্বিধায় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন।

​আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আপনাদের দেওয়া একটি ভোটকে আমি কখনো অবমূল্যায়ন করব না। বিজয়ী হলে পৌরভবনের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। আমি আপনাদের সেবক হয়ে, সুখ-দুঃখের চিরদিনের সাথী হয়ে থাকতে চাই। আসুন, দলমত নির্বিশেষে আমরা সবাই মিলে প্রিয় বেনাপোলকে একটি সুন্দর, আধুনিক ও নিরাপদ পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলি।
​আপনারা শুধু আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আজীবন আপনাদের এই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করতে পারি।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর