
পার্বত্য জেলা বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে ২৮৫টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্রায় ১৪২৫জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে জাতীয়করণের দাবিতে খাগড়াছড়িতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৫) সকাল ১০টায় খাগড়াছড়ি পৌরসভার প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এসে মানববন্ধনে রূপ নেয়।
এ মানববন্ধন ও কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য জেলা বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি জ্যোতি ত্রিপুরা। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পারুল চাকমা।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি জজ কোর্টের এ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন মজুমদার, সাংবাদিক চাইথোয়াই মারমা, বিরাশিমূড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জুলিকা ত্রিপুরা এবং খাগড়াছড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সদস্য নূর আমীন।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিগত দশকগুলোতে জাতীয়করণের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন সরকার প্রথম পর্যায়ে ৩২,০০০টি এবং পরে আরও ৪,১৬৫টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে। একইভাবে ২০১৩ সালে ২৬,১৯৩টি এবং ২০১৭ সালে পার্বত্য জেলায় ‘ইউএনডিপি’ পরিচালিত ২১০টি বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়।

কিন্তু জাতীয়করণের সময় পার্বত্য জেলার তথ্য-উপাত্ত সঠিকভাবে সংগ্রহ না করার কারণে বর্তমান সময়ে ২৮৫টি বিদ্যালয় এবং সেখানে কর্মরত প্রায় ১৪২৫জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এই প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
বক্তারা জানান, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে এবং বিনা বেতনে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য দ্রুত জাতীয়করণ প্রয়োজন। তাঁরা আরও বলেন, ২০২১ সালের ৫ অক্টোবর এবং ২০২৩ সালের ২১ জুন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পাঠানো হলেও এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
মানববন্ধন শেষে উপস্থিত শিক্ষকরা খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, পার্বত্য জেলার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার প্রসার ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত জাতীয়করণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, যদি এই দাবি পূরণ না হয়, তবে তারা কঠোর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিতে বাধ্য হবেন।
মানববন্ধনে তিন পার্বত্য জেলার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয়।
দূর্গম অঞ্চলের কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়তে এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা করেছেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
পাইকগাছায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও...
পাইকগাছায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা...
পানছড়িতে ঝর্ণা থেকে পাওয়া ‘শিবমূর্তি’ ঘিরে ভক্তদের ভিড়,...
পানছড়িতে ঝর্ণা থেকে পাওয়া ‘শিবমূর্তি’ ঘিরে...
বোয়ালী ইউনিয়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় সব সময় পাশে...
বোয়ালী ইউনিয়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় সব...
লোহাগড়ায় টর্চলাইট জ্বালিয়ে দু’গ্রুপে সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ১৫,বাড়ি-ঘর...
লোহাগড়ায় টর্চলাইট জ্বালিয়ে দু’গ্রুপে সংঘর্ষে মহিলাসহ...
সরাইলে”র প্রধান সড়কের বেহাল দশা, জনদূর্ভোগ
সরাইলে”র প্রধান সড়কের বেহাল দশা, জনদূর্ভোগ
আবু সাঈদ ময়মনসিংহ বিভাগের শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত
আবু সাঈদ ময়মনসিংহ বিভাগের শ্রেষ্ঠ সহকারী...