ব্রাহ্মণবাড়িয়া অবৈধভাবে মাটির ব্যবসা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের উপর হামলা

প্রকাশিত: ১২:২৫ অপরাহ্ণ , ২৬ এপ্রিল ২০২৫, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
প্রতিকী ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় অবৈধভাবে মাটির ব্যবসা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্য সচিব মোখলেছুর রহমান ওরফে লিটন মুন্সী ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাইয়ূম মিয়ার নেতৃত্বে সাংবাদিক মাইনুদ্দিন রুবেলের উপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ৮ টার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত মাইনুদ্দিন রুবেলকে প্রথমে বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মাইনুদ্দিন রুবেল বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের ভিটিদাউদপুর গ্রামের বাসিন্দা।

তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দক্ষিণ মৌড়াইলে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। মাইনুদ্দিন রুবেল জাতীয় দৈনিক দেশ রূপান্তর ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাইয়ুম মিয়া গত ৫ আগস্টের পর থেকে উপজেলার সর্বত্রই অবৈধভাবে মাটি কেটে ট্রাক্টর নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে আসছেন। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন স্থানের পুকুরসহ ফসলি জমি অবৈধভাবে ভরাট করে আসছেন।

রাতদিন ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন জায়গায় মাটি বিক্রি করেন কাইয়ুম। কাইয়ুমের এই কাজ দেখাশোনা করেন তার ছেলে মোঃ মুন্না, রাসেল মিয়া ও মোবারক হোসেন, চাচাতো ভাই রুবেল মিয়া ও ইছাপুরা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনিছ মিয়া। তাদের এসব কাজে সহায়তা করেন উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্য সচিব মোখলেছুর রহমান ওরফে লিটন মুন্সী।

গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়নগর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে অংশ নেয়ায় দল থেকে মোখলেছুর রহমান ওরফে লিটন মুন্সীকে বহিস্কার করা হয়। তিনি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানও। অবৈধভাবে মাটি কাটার ঘটনায় মাইনুদ্দিন রুবেল ইতিপূর্বে দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় বেশ কয়েকটি সংবাদ প্রকাশ করে। এতে করে কাইয়ুম ও লিটন মুন্সি রুবেলের উপর ক্ষুদ্ধ হন ও তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেন।

গত শুক্রবার পৌনে আটটার দিকে মাইনুদ্দিন রুবেল ব্যক্তিগত কাজে বিজয়নগর যাওয়ার পথে বিজয়নগর উপজেলা কমপ্লেক্সের সামনে পৌছলে সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা মোখলেছুর রহমান ওরফে লিটন মুন্সী, কাইয়ুম, কাইয়ুমের ছেলে মোঃ মুন্না, রাসেল মিয়া ও মোবারক হোসেন, কাইয়ুমের চাচাতো ভাই রুবেল মিয়া ও ইছাপুরা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনিছ মিয়া, তাদের গোষ্ঠীর মামুন মিয়াসহ ৩০/৪০ জন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সাংবাদিক মাইনুদ্দিন রুবেলের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করেন।

সে সময় তার সাথে থাকা ভাগিনা মোঃ সোহাগ, এলাকার মোঃ শিপনসহ কয়েকজন মিলে চেষ্টা করেও মাইনুদ্দিন রুবেলকে রক্ষা করতে পারেননি। তাদের হামলায় মাইনুদ্দিন মাথার ডানপাশে আঘাত পান।

স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। মাইনুদ্দিনের মাথার ডানপাশে ছয়টি সেলাই লেগেছে। পরে সেখানকার চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তিও পরামর্শ দেন।

হাসপাতালে আহত সাংবাদিক মাইনুদ্দিন রুবেল বলেন, মাটি কাটার নিউজ করায় কাইয়ুম, তার ছেলেরা ও ভাইয়েরা আমার উপর ক্ষুব্ধ হন। বাড়ির সামনে পেয়ে লিটন মুন্সি ও কাইয়ুমের নেতৃত্বে তারা পরিকল্পিতভাবে আমার উপর হামলা করেছে। কাইয়ুম নিজে আমাকে মেরেছে। তারা আমাকে হত্যা করতে চেয়েছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।

আহত সাংবাদিক মাইনুদ্দিন রুবেলের ভাগিনা সোহাগ মিয়া ও স্থানীয় শিপন মিয়া বলেন, আমরা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার পথে তারা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা করেছে। থামাতে গিয়ে আমরাও আহত হয়েছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মোখলেছুর রহমান ওরফে লিটন মুন্সী বলেন, সাংবাদিক মাইনুদ্দিন রুবেলের উপর হামলার বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এ ঘটনায় আমি জড়িত নই।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কাইয়ুম মিয়ার সাথে একাধিকবার চেষ্টা করেও মোবাইল ফোন না ধরায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে দৈনিক দেশ রূপান্তর ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি মাইনুদ্দিন রুবেলের উপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাহারুল ইসলাম মোল্লা। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর