ত্রিশাল-পোড়াবাড়ি সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ, বাড়ছে প্রাণহানির আশঙ্কা

প্রকাশিত: ১২:৪৪ অপরাহ্ণ , ৩০ আগস্ট ২০২৬, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 month আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

একটি দুর্ঘটনা—একটি পরিবারকে মুহূর্তেই নিঃস্ব করে দিতে পারে। অথচ সেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। ময়মনসিংহের ত্রিশাল-পোড়াবাড়ি সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পঞ্চাশের কাছাকাছি ঝুঁকিপূর্ণ ও মৃত গাছগুলো যেন এখন নীরব আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে।

সড়কের পাশে অনেক গাছ শুকিয়ে ভঙ্গুর হয়ে গেছে। কোথাও বড় বড় ডালপালা ঝুঁকে পড়েছে সড়কের ওপর, কোথাও আবার গাছ হেলে রয়েছে বিদ্যুতের তারের দিকে। যেকোনো সময় এসব গাছ বা ডালপালা ভেঙে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ঝরে যেতে পারে একটি মূল্যবান প্রাণ, থমকে যেতে পারে একটি পরিবারের স্বপ্ন।

সম্প্রতি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে পোড়াবাড়ি পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায় এমনই চিত্র।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে শুকিয়ে যাওয়া গাছের ছাল ও ডালপালা খসে পড়ছে। অনেক গাছের বড় বড় ডাল সড়কের ওপর বিপজ্জনকভাবে ঝুঁকে রয়েছে। মালবাহী ট্রাক কিংবা উঁচু যানবাহন চলাচলের সময় এসব ডালের সঙ্গে ধাক্কাও লাগছে। ফলে কয়েকটি গাছের গায়ে রয়েছে আঘাতের চিহ্ন।

কোথাও আবার শুকিয়ে যাওয়া গাছ হেলে আছে বিদ্যুতের তারের ওপর। কোনো কারণে গাছ বা ডালপালা ভেঙে তারের ওপর পড়লে ঘটতে পারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা কিংবা বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

শুধু পথচারী নয়, সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালকরাও রয়েছেন আতঙ্কে। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টি কিংবা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় তাদের শঙ্কা আরও বেড়ে যায়। কারণ, একটি বড় ডাল কিংবা সম্পূর্ণ একটি গাছ মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে সড়ক বন্ধ করে দিতে পারে। সেই সঙ্গে কেড়ে নিতে পারে মানুষের জীবন।

মোটরসাইকেল আরোহী সোহেল মিয়া বলেন, “সড়কে অনেকগুলো মরা গাছ আর হেলেপড়া গাছের ডালপালা ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মনের ভিতর ভয় নিয়ে চলতে হয়, কখন না জানি গায়ে এসে পড়ে। গাছ কাটার কঠোর আইনের কারণে কেউ নিজ দায়িত্বে গাছ কেটে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে চায় না। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত গাছগুলো সরানোর ব্যবস্থা করা।”

ভ্যানগাড়ি চালক হারুন রশীদ বলেন, “মরাগাছের ডইল পইড়া কয়দিন আগে দুইজন দুক্কু পাইছে। গাড়ির উপরে পইড়া গাড়ির কাঁচও ভাঙছে। গাছগুলা কাইটা হালানি দরকার।”

পথচারী সোহাগ ফরাজি বলেন, “কয়েক বছর আগে মরা এই গাছগুলা এখন পঁইছা পঁইছা পড়তাছে। ভয় লাগে, কোন সময় উপরে পইড়া যায়। ভয়ে এক সাইট দিয়া আসার চেষ্টা করি।”

ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, “গাছগুলো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা নিরূপণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ হাসনাত জাহান খান বলেন,“আমাদের প্রথম প্রায়োরিটি হলো মানুষের জানমালের নিরাপত্তা। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে, গাছগুলো কার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করব এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা মানুষগুলোর একটাই প্রত্যাশা—কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়, কোনো সন্তান যেন অকালে বাবা কিংবা মাকে না হারায়, কোনো পরিবার যেন একটি দুর্ঘটনার কারণে সারাজীবনের জন্য নিঃস্ব না হয়।

তাই বড় কোনো দুর্ঘটনা কিংবা প্রাণহানি ঘটার আগে ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এখন প্রশ্ন একটাই—কর্তৃপক্ষ কি দুর্ঘটনার অপেক্ষা করবে, নাকি দুর্ঘটনা ঘটার আগেই বাঁচাবে মানুষের জীবন?।

মন্তব্য লিখুন