• চট্রগ্রাম শীর্ষ সংবাদ
  • পানছড়িতে ঝর্ণা থেকে পাওয়া ‘শিবমূর্তি’ ঘিরে ভক্তদের ভিড়, মন্দির নির্মাণে সহযোগিতার আহ্বান

পানছড়িতে ঝর্ণা থেকে পাওয়া ‘শিবমূর্তি’ ঘিরে ভক্তদের ভিড়, মন্দির নির্মাণে সহযোগিতার আহ্বান

প্রকাশিত: ১:৪৬ অপরাহ্ণ , ৫ জুন ২০২৬, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 hours আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার উল্টাছড়ি ইউনিয়নের মরাটিলা এলাকার পদ্মিনী পাড়ায় একটি পাথরকে ‘শিবমূর্তি’ হিসেবে পূজা-অর্চনা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ১৮ মে ঝর্ণা থেকে ওই পাথরটি আনা হয়। এরপর থেকে এলাকাবাসী ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে দর্শনার্থী ও ভক্তরা সেটি দেখতে সেখানে ভিড় করছেন।

শুক্রবার (৫জুন ২০২৬) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, পদ্মিনী পাড়ার শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দিরের পুরোহিত মাধুরী ত্রিপুরা (৫৩) কয়েক দফা স্বপ্ন দেখার পর ঝর্ণা থেকে পাথরটি সংগ্রহ করেন। তার বিশ্বাস, পাথরটি মহাদেব শিবের প্রতীক। বর্তমানে সেটি জগন্নাথ মন্দিরের একটি কোণে সংরক্ষণ করে নিয়মিত পূজা-অর্চনা করা হচ্ছে।

পুরোহিত মাধুরী ত্রিপুরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্বপ্নে একটি পাথরকে নিয়ে আসার নির্দেশ পান। প্রথমদিকে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও পরবর্তীতে পারিবারিক নানা সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার পর তিনি স্থানীয় কার্বারী ও মন্দির পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে পাথরটি সংগ্রহ করেন। এরপর থেকেই তিনি এটিকে শিবমূর্তি হিসেবে পূজা করে আসছেন।

তবে বর্তমানে মূর্তিটি সংরক্ষণ ও পূজার জন্য পৃথক স্থানের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, একই কক্ষে জগন্নাথ মন্দিরের অন্যান্য দেব-দেবীর মূর্তির সঙ্গে এটি রাখা হলে পূজা-অর্চনা ও দর্শনার্থীদের ব্যবস্থাপনায় অসুবিধা হতে পারে। এ কারণে স্থানীয়দের উদ্যোগে পৃথক একটি ছোট মন্দির নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় কার্বারী বাদশা কুমার ত্রিপুরা বলেন, “মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমাজের ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি, দাতা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

সম্প্রতি স্থানটি পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সমাজসেবক প্রশান্ত ত্রিপুরা। তিনি বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি শুনে তিনি সেখানে যান এবং পৃথক মন্দির নির্মাণে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেন।

প্রশান্ত ত্রিপুরা জানান, তিনি বিষয়টি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরাকে অবহিত করেছেন। চেয়ারম্যান বরাদ্দের সুযোগ থাকলে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে মন্দির নির্মাণের প্রাথমিক উদ্যোগে ব্যক্তিগতভাবে অর্থ সহায়তা দিয়েছেন সমাজসেবক প্রশান্ত ত্রিপুরা। পাশাপাশি থাইল্যান্ডপ্রবাসী চারু বিকাশ ত্রিপুরাও আর্থিক সহযোগিতা করেছেন। স্থানীয়দের মতে, তাদের এই সহায়তার মাধ্যমে মন্দির নির্মাণ কার্যক্রমের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

পাশ্ববর্তী ওয়ার্ডের যুব প্রতিনিধি হমেন ত্রিপুরা হৃদয় বলেন, তিনি নিজেও মূর্তিটি দেখেছেন এবং মন্দির নির্মাণে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

মরাটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজর কান্তি ত্রিপুরা বলেন, “আমি বিষয়টি জেনেছি এবং সরেজমিনে দেখেছি। আলাদা একটি মন্দির নির্মাণ করা হলে পূজা-অর্চনা ও দর্শনার্থীদের জন্য সুবিধা হবে।”

একজন স্থানীয় ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমানে মন্দিরে জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। তাই পৃথক একটি ঘর নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

উল্টাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কাখারাং ত্রিপুরা বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি এবং দেখেছি। সুযোগ থাকলে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যায় তা বিবেচনা করা হবে।”

তবে শিবমূর্তি হিসেবে পূজিত পাথরটির বিষয়ে স্থানীয়দের ধর্মীয় বিশ্বাস থাকলেও এর ঐতিহাসিক, প্রত্নতাত্ত্বিক বা বৈজ্ঞানিক কোনো সত্যতা এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হয়নি।

উল্লেখ্য, পদ্মিনী পাড়ায় এর আগেও একটি শিবমন্দির রয়েছে। তবে নতুন করে পূজিত এই শিবমূর্তির জন্য পৃথক মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর