বিপুল ভোটে জয়ের পর ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় খাগড়াছড়িবাসী

প্রকাশিত: ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ , ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়িঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি–২৯৮ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া-কে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৫১ হাজার ৪০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এই ফলাফলের পর জেলা জুড়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ওয়াদুদ ভূঁইয়া পাহাড়ি ও বাঙালি—সব সম্প্রদায়ের মানুষের আস্থাভাজন নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁদের মতে, তিনি মন্ত্রী হলে খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে শান্তি-সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম গতি পাবে।

স্বেচ্ছাব্রতী সংগঠন উজ্জীবক ফোরাম–এর সাবেক সভাপতি ও সমাজকর্মী রানা হামিদ বলেন, পাহাড়ের প্রায় ৪৫ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় ওয়াদুদ ভূঁইয়া মানুষের বিপদের দিনে পাশে থেকেছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সমান গুরুত্ব দেওয়া এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

তিনি বলেন, “রাঙামাটি ও বান্দরবান একাধিকবার মন্ত্রী পেয়েছে। এবার খাগড়াছড়িবাসীর ন্যায্য প্রত্যাশা—এখান থেকেও একজন পূর্ণ মন্ত্রী হোক।”

খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফ মোহাম্মদ জাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের বহু জাতিগোষ্ঠীর জনপ্রিয় নেতা হিসেবে ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে চান তারা। তাঁর মতে, অঞ্চল ও জনসংখ্যার বাস্তবতা বিবেচনায় খাগড়াছড়িতে একজন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর প্রয়োজন দীর্ঘদিনের।

জেলা যুবদলের সভাপতি মাহবুল আলম সবুজ বলেন, “এত বড় ব্যবধানে জয়লাভ মানে জনগণের প্রত্যাশাও অনেক বড়। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতায় উন্নয়নের জন্য বিশেষ নজর দরকার। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি মন্ত্রী হলে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে থেকে এলাকার সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।”

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার বলেন, পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে ওয়াদুদ ভূঁইয়া নির্বাচিত হয়েছেন। দলীয়ভাবে তারা আশা করছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ, ত্রিপুরা ঐক্য পরিষদ, মারমা ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে মন্ত্রী করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলের বহুজাতিক সমাজব্যবস্থায় একজন অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য নেতার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি অঞ্চলটির উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

উল্লেখ্য, ওয়াদুদ ভূঁইয়া এর আগেও ২০০১ সালে খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য এবং উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে অনেকেই মনে করছেন, এবার তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পেলে খাগড়াছড়ি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও সম্প্রীতির রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় সূচিত হতে পারে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর