
সাহারুল হক সাচ্চু,উল্লাপাড়াঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বোরো ( ইরি ) ধান জমিতে ক্ষতিকারক পোকা মাকড়ের দমনে কৃষকেরা পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। ফি বছর পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করা কৃষক সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে। ধান জমিতে পোকা দমনে একবার উপকার পাওয়া কৃষক নিজ আগ্রহে আগে ভাগেই জমিতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে ফসলের জমিতে পোকামাকড় দমনে পার্চিং পদ্ধতি সাধারণত দুই রকমের হয়। এর একটি হলো ডেড পার্চিং আর অপরটি হলো লাইভ পার্চিং । ডেড পার্চিং পদ্ধতিতে ফসলের জমিতে পাখি বসতে পারে গাছের এমন মরা ডাল , মরা বাশের আগা কিংবা বড় মাপের কঞ্চি পুতে রাখা হয়।
ফিঙ্গে ( ফেইচকা পাখি নামে পরিচিত ) ও বিভিন্ন ধরনের পাখি জমিতে পুতে রাখা গাছের ডাল , বাশের আগা কিংবা কঞ্চিতে বসে ফসলের ক্ষতি করে এমন পোকামাকড় ধরে খায়। প্রায় সবাই ডেড পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করেন বলে জানা গেছে । আর লাইভ পার্চিং পদ্ধতি বলতে জমির কাছে বিভিন্ন জীবন্ত গাছে পাখি বসে ক্ষতিকর পোকামাকড় ধরে খেয়ে ফেলে।
ফসলের জমিতে পোকা দমনের এ পদ্ধতির নাম পার্চিং। বোরো ধান ফসলের জমিতে ক্ষতিকর মাজরা পোকাসহ নানা পোকামাকড় দমনে ধানের চারা রোপণের আড়াই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে জমিতে পার্চিং পদ্ধতি করতে হয় বলে জানা গেছে। এক বিঘা পরিমাণ একটি জমিতে গোটা তিনেক গাছের মরা ডাল , বাশের আগা নয়তো কঞ্চি পুতে রাখতে হয়।
গত দিন পাচেক সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠে ডেড পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করা দেখা গেছে। এর মধ্যে চালা এলাকায় পাশাপাশি বোরো ধান আবাদ করা কয়েক বিঘা জমিতে কিছু দূর পর পর গাছের মরা ডাল পুতে রাখা দেখা গেছে। আরেক মাঠে জমিতে পুতে রাখা মরা ডালে ফিঙ্গে পাখি বসে থাকতে দেখা গেছে।
এদিকে সদর উল্লাপাড়া ইউনিয়নের চালা মাঠে দুজন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু ইউসুফ ও গোলাম মর্তুজাকে সরাসরি মাঠে কৃষকদেরকে পার্চিং পদ্ধতিতে গাছের মরা ডাল পুতে রাখা দেখিয়ে দিতে দেখা গেছে। প্রতিবেদককে এসময় তারা বলেন দিন কয়েকের মধ্যে আরো কৃষক পার্চিং পদ্ধতিতে জমিতে ডাল , কঞ্চি পুতবেন।
বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা বলেন পোকা দমনে বিনা খরচে এ পদ্ধতিতে ভালো। জমিতে পুতে রাখা গাছের ডালে , কঞ্চিতে পাখি বসে ক্ষতিকর পোকামাকড় ধরে খাচ্ছে। এতে ভালো উপকার হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন ফসলের জমিতে পোকামাকড় দমনে পার্চিং পদ্ধতিটি পরিবেশ বান্ধব এবং লাভজনক। খুবই কার্যকর একটি পদ্ধতি। কেননা এ পদ্ধতির মাধ্যমে কীটনাশক ব্যবহার খুবই কম হয়। সব মিলিয়ে ফসলের উৎপাদনে খরচ কম হয়।
এছাড়া বালাই নাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা ও ক্ষতিকর পোকার বংশ বিস্তার কমানো যায়। পার্চিং পদ্ধতিতে আরো একটি উপকারিতা মেলে । তাহলো পাখির বিষ্ঠা জমিতে জৈব পদার্থ যোগ করে ফসলী জমির মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান আসামি আবু...
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান...
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের আমন্ত্রণে বিরল...
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের...
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ বাবাকে ‘মিথ্যাবাদী’...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ...
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ...