লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ বাবাকে ‘মিথ্যাবাদী’ বললেন মেয়ে

প্রকাশিত: ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ , ৫ জুন ২০২৬, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 hour আগে
সংগৃহীত ছবি।

বগুড়ার আদমদীঘি থানায় কর্মরত এক পুলিশ কনস্টেবলের ১৭ বছর বয়সী মেয়ে নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বাবার দাবি, তার নাবালিকা মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে এবং মামলা করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন তিনি। মেয়েকে উদ্ধার করে দিতে ওসি ঘুষ দাবি করেছেন বলেও অভিযোগ তার।

তবে, মেয়ে ফেসবুকে লাইভে তার প্রেমিকের সঙ্গে এসে দাবি করেছেন, অপহরণের পুরো বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি ৪ বছরের প্রেমের সম্পর্কের জেরে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করে সংসার করছেন।

নিখোঁজ কিশোরীর নাম তসনিয়া রানা তামান্না (১৭)। তার বাবা মো. রানা মাসুদ কনস্টেবল হিসেবে আদমদীঘি থানায় কর্মরত এবং প্রায় ২২ বছর ধরে পুলিশ বাহিনীতে আছেন।

জানা গেছে, এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে প্রথম দফায় নিখোঁজ হন তামান্না। ওই ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সোনাপুর গ্রামের শহিদ হোসেনসহ (১৮) কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করেন।

মামলার পর পুলিশ তামান্নাকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করলে তিনি জবানবন্দিতে জানান, শহিদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। মেয়েটির বয়স ১৭ বছর হওয়ায় এবং ডাক্তারি পরীক্ষার ভিত্তিতে গত ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

আদালতের মাধ্যমে বাবার জিম্মায় ফেরার পরদিনই, অর্থাৎ গত ১ মে সকাল ৭টার দিকে তামান্না আবারও শহিদ হোসেনের সঙ্গে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় কনস্টেবল রানা মাসুদ আদালতে পুনরায় অভিযোগ দায়ের করলে গত ৭ মে আদমদীঘি থানায় নতুন করে একটি মামলা রুজু হয়। মামলাটি বর্তমানে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে।

এদিকে, দ্বিতীয়বার নিখোঁজের পর তামান্না তার নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে এক বিবৃতিতে বলেন, আমার নামে অপহরণের যে মামলা দেওয়া হয়েছে, তা পুরোপুরি মিথ্যা, ভুল ও বানোয়াট। বাবা একজন পুলিশ কনস্টেবল হয়ে নিজের মেয়ের নামে মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছেন। আমার হাজবেন্ডের সঙ্গে ৪ বছরের সম্পর্ক। বাবা এবং ফ্যামিলির লোকজন এটা মেনে নিচ্ছে না দেখেই মিথ্যা ছড়াচ্ছে।

তবে, কনস্টেবল রানা মাসুদের অভিযোগ ভিন্ন। তার দাবি, গত ১ মে মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি থানায় মামলা করতে গেলে আদমদীঘি থানার ওসি তার কাছে টাকা (ঘুষ) দাবি করেন। নিরুপায় হয়ে তিনি ডিআইজিকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানালে ডিআইজির নির্দেশে থানা-পুলিশ প্রথমে একটি সাধারণ ডায়েরি এবং পরে মামলা নেয়।

দীর্ঘ এক মাসেও মেয়ে উদ্ধার না হওয়ায় আক্ষেপ করে তিনি বলেন, আমি একজন পুলিশ সদস্য হয়েও বিচার পাচ্ছি না। দেশের সাধারণ মানুষ তাহলে কীভাবে বিচার পাবে? তিনি মেয়ের উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে স্ত্রীসহ ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়েছেন।

রানা মাসুদের আরও অভিযোগ, জয়পুরহাটের একটি থানার ওসি তাকে ডেকে নিয়ে মেয়েকে ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে কোনো মামলা না করার শর্তে স্বাক্ষর দিতে বলেছিলেন, যাতে তিনি রাজি হননি।

ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, ঘুষ দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। পুলিশের মেয়ে মানে সে আমাদেরও মেয়ে। যথাসময়েই তার মামলা নেওয়া হয়েছিল। এরপরও তিনি মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছেন এবং বর্তমানে থানায় অনুপস্থিত রয়েছেন।