উল্লাপাড়ায় বোরো ধান কাটা শুরু, ভালো ফলনে খুশী কৃষকেরা

প্রকাশিত: ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ , ২৭ এপ্রিল ২০২৫, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

সাহারুল হক সাচ্চু,উল্লাপাড়াঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় অতি আগাম করে আবাদ করা বছরের প্রধান আবাদের বোরো (ইরি) ধান ফসল কাটা শুরু হয়েছে। উপজেলার সলঙ্গা , রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা মাঠের পাকা বোরো ধান কেটে ঘরে তুলছেন।

জানা গেছে কৃষকেরা বোরো ( হাইব্রিড), বোরো ( উফশী) ও স্থানীয় বোরো মিলে নানা নাম জাতের ধান আবাদ করেছেন। যারা আগাম আবাদের বোরো ধানে ফলন ভালো হারে মিলছে বলে জানা গেছে। এখন ধান কাটায় দিন যেতেই গ্রামীণ মজুরদের চাহিদা ও মজুরীর দাম বাড়ছে ৷ প্রায় সব এলাকাতেই গ্রামীণ মজুরেরা দিন হাজিরায় নয় বিঘা চুক্তিতে জমির ধান কাটছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানানো তথ্যে, এবারের মৌসুমে গোটা উপজেলায় ৩০ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। উপজেলার প্রায় সব মাঠেই কম বেশী পরিমাণ জমিতে বোরো ধান ফসলের আবাদ করা হয়েছে। কৃষকেরা বেশী হারে ফলনশীল নানা নামের হাইব্রিড জাতের ধানসহ নানা জাতের ধানের আবাদ করেছেন।

উপজেলার রামকৃষ্ণপুর,সলঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মাঠে আগাম করে লাগানো বোরো ধান গত দিন সাতেক হলো কাটা শুরু হয়েছে। সলঙ্গা ইউনিয়নের বনবাড়িয়া , কুঠিপাড়া , বেতুয়া, গোজা , রাণীনগর এলাকার মাঠে কৃষকদেরকে বোরো ধান ফসল কাটতে দেখা গেছে।

প্রতিবেদককে ধান কাটা ও বয়ে বাড়ীর উঠোন আঙ্গিনায় নেওয়াকালে কৃষকেরা জানান এবারে বেশ ভালো হারে ধানের ফলন পাচ্ছেন। এমন ফলনে তারা খুশী বলে জানান। কুঠিপাড়ার কৃষক রশিদ মিয়া , চৌবিলার কৃষক জানান শুভলতা ধান কেটে মাড়াই পর ওজন করে হিসাব করেছেন বিঘা প্রতি প্রায় বিশ মণ হারে ফলন হয়েছে। গোজার পাশাণ সরকার বলেন কাটারীভোগ ধান বিঘা প্রতি প্রায় পচিশ মণ হারে ফলন হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঠের বোরো ধান কাটা কাজে গ্রামীণ দিন মজুরদের চাহিদা বেড়েছে। এখন দিন যেতেই আরো বাড়বে। বোরো ধান কাটায় একজন কামলার দিনের মজুরীর দাম সাড়ে চারশো থেকে পাচশো টাকা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন এলাকায় মজুরেরা দলবেধে চুক্তিতে ধান কাটছেন। গোজা গ্রামের আহেজ সরকার বলেন তারা বিঘা প্রতি তিন হাজার ছয়শো টাকা চুক্তিতে মাঠে ধান কেটে তা কৃষকদের বাড়ীর উঠোন আঙ্গিনায় বয়ে দিচ্ছেন।

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন বেশী হারে ফলনশীল বিভিন্ন জাতের বোরো ধান আবাদ কৃষকেরা করেছেন। কৃষকেরা সঠিক সময়ে সঠিক পরিচর্যা করায় ধানে রোগ বালাই হয়নি বলা চলে। আগাম আবাদ করা ধানের ফলন কৃষকেরা ভালো হারে পাচ্ছেন বলে খোজ খবর নিয়ে জেনেছেন।

মন্তব্য লিখুন