কেন্দুয়ায় পৃথক ঘটনায় তিনজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

প্রকাশিত: ৩:০৪ অপরাহ্ণ , ৪ আগস্ট ২০২৫, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ফাইল ছবি।

মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা): নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় পৃথক তিনটি ঘটনায় তিনজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুজন হত্যার শিকার হয়েছেন এবং একজন আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাগুলো ঘটেছে উপজেলার মাসকা, গড়াডোবা ও রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নে।

মাসকা ইউনিয়নের কীর্তনখলা গ্রামে শুক্রবার (১ আগস্ট) সকালে কোদালের কোপে আহত হন ইদু মিয়া (৩২)। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মুন্নাফের ছেলে। এলাকাবাসী জানায়, ঘটনার সময় মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩০) ক্ষেতের আইল কাটছিলেন।

এ সময় ইদু মিয়া ও কয়েকজন তাকে বারবার ক্ষ্যাপাতে থাকেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে জাহাঙ্গীর কোদাল দিয়ে ইদু মিয়াকে কুপিয়ে আহত করেন। গুরুতর আহত ইদু মিয়াকে প্রথমে ময়মনসিংহ ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরপরই পুলিশ জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে ৫৪ ধারায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। কেন্দুয়া থানা এসআই রেজাউ

গড়াডোবা ইউনিয়নের আলীম উদ্দিনের স্ত্রী জিদনী বেগম (২১) রোববার (৩ আগস্ট) দুপুরে রহস্যজনকভাবে নিজ ঘরে মৃত্যু বরণ করেন। স্বামী আলীম উদ্দিন দাবি করেন, তিনি ঘরের বাইরে ছিলেন এবং ফিরে এসে দেখেন স্ত্রী ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আছেন। তিনি একাই তাকে নিচে নামান।

তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের সময় আড়াই লাখ টাকা যৌতুকের মধ্যে এক লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। বাকি দেড় লাখ টাকার জন্য প্রায়ই চাপ দিতেন আলীম উদ্দিন। তাদের দাবি, যৌতুকের দাবিতেই জিদনীকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই রানা মিয়া সোমবার (৪ আগস্ট) কেন্দুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ আলীম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।

সোমবার (৪ আগস্ট) ভোরে রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের কান্দিপাড়া গ্রামের পলাশ মিয়া (২২) নিজ বাড়ির বারান্দায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পলাশ তিন সপ্তাহ আগে বিয়ে করেছিলেন এবং মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন বলে জানান পেমই তদন্ত কেন্দ্রের এসআই বাবুল আহমেদ। পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে বিনা ময়নাতদন্তে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “জিদনী বেগমের মৃত্যুতে রহস্যজনক কিছু রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

অপরদিকে, ইদু মিয়ার হত্যাকারীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান। পলাশ মিয়ার ঘটনায় পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় প্রশাসনিক অনুমোদনক্রমে মরদেহ দাফন করা হয়েছে।”

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর