
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় শান্তি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে দুইজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন যাত্রী। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১১টার দিকে মাটিরাঙা উপজেলার আলুটিলা সাপমারা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাহাড়ি সড়কের বাঁকঘেরা বিপজ্জনক অংশে আলুটিলা নামার সময় বাসটির সামনের চাকা ফেটে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটি পাহাড়ের ঢালে গিয়ে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা চালায়, পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতাল ও মাটিরাঙা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “দুর্ঘটনায় দুইজন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”
আহত যাত্রীদের অভিযোগ, বাসচালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তাদের ভাষায়, “বারবার বলার পরও চালক গতি কমাননি। পাহাড়ের নামার সময় হঠাৎ টায়ার ফেটে গেলে গাড়ি উল্টে যায়।” দুর্ঘটনার পর চালক ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
খাগড়াছড়ি পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক রোকন উদ্দিন জানান, শান্তি পরিবহনের বাসটি বাঘাইহাট থেকে ৩৬ জন যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলো। তিনি বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আহতদের খোঁজ-খবর নিচ্ছি এবং সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিচ্ছি।”
স্থানীয় সড়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ি অঞ্চলে পুরনো ও রক্ষণাবেক্ষণহীন গাড়ি চলাচল, অভিজ্ঞ চালকের অভাব, এবং বেপরোয়া গতিই এ ধরনের দুর্ঘটনার মূল কারণ। তারা মনে করেন, পাহাড়ি সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত যান্ত্রিক তদারকি না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কটি পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত রুট। প্রায় প্রতিদিনই এই সড়ক দিয়ে শতাধিক যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করে। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোর মধ্যে আলুটিলা, সাপমারা, ও মাটিরাঙা-বাটনাতলী অংশকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, “প্রায়ই এখানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে, কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তেমন কোনো উন্নতি দেখা যায় না।”
খাগড়াছড়ির আলুটিলা এলাকা পাহাড়ি ঢাল, সরু বাঁক এবং ভারি যানবাহনের চাপে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সড়ক ব্যবস্থাপনা, গাড়ির ফিটনেস যাচাই, এবং চালকদের প্রশিক্ষণ ও মনিটরিং ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকায় দুর্ঘটনার হার কমছে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবহন নীতিমালা আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ না করা হলে এমন দুর্ঘটনা থামানো কঠিন হবে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান আসামি আবু...
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান...
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের আমন্ত্রণে বিরল...
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের...
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ বাবাকে ‘মিথ্যাবাদী’...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ...
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ...