
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানের বক্তব্যের সমালোচনা করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরুন্নবী বলেছেন, আমাদের আন্দোলনকে মিসগাইড করার জন্য তিনি (মুখপাত্র) এই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই আন্দোলনকে কোনোভাবে রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়ার কোন সুযোগ নাই। এটি ব্যাংকের স্বার্থে সচেতন গ্রাহকদের আন্দোলন।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সচেতন গ্রাহক ফোরাম আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, সোমবার (১ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, একটি রাজনৈতিক দল ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করছে। কোনো ব্যাংকে রাজনৈতিক প্রভাব মেনে নেওয়া হবে না। সড়কে আন্দোলন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা যাবে না।
বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে অধ্যাপক নুরুন্নবী বলেন, আমরা চাই শরিয়াহ ব্যাংকিং ব্যবস্থা আরও বিকশিত হোক, সেই কারণে আমরা এই ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়েছি। এটি কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, ব্যাংকের স্বার্থে আমাদের সচেতন গ্রাহকদের আন্দোলন।
তিনি বলেন, ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, এশিয়া তথা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যাংকে পরিণত হয়। এই ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসতো এবং ব্যাংকটি দেশের উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করতো। ২০১৭ সালে বিগত সরকারের মদতে গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ এস আলম নামক একটি গ্রুপের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর ফলে অনিয়মিতভাবে ঋণ নেওয়া এবং বিদেশে অর্থ পাচারের মাধ্যমে ব্যাংকটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসা হয়।
তিনি বলেন, ব্যাংকের এই দুঃসময়ে এমডি ওমর ফারুক খান দায়িত্ব নেন এবং অল্প সময়ে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করে ব্যাংকটিকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেন। সোমবার রাতে ব্যাংকের এক অবৈধ ভার্চুয়াল সভায় তার পদত্যাগপত্র নেওয়া হয়েছে। জোরপূর্বক তাকে পদত্যাগ করানো হয়েছে।
এ ছাড়া, সম্প্রতি ড. জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করলে তার পরিবর্তে এমন একজনকে (খুরশিদ আলম) চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়েছে, যিনি এস আলম গ্রুপের দোসর এবং অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত। এই নতুন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারি ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ রয়েছে। তাই সচেতন গ্রাহকরা তাকে মেনে নিতে পারছেন না।
তিনি বলেন, আমাদের দাবি হলো বর্তমান চেয়ারম্যান খুরশিদ আলমের নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করে একজন সৎ, যোগ্য এবং শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান নিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি ওমর ফারুক খানের পদত্যাগপত্র নেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল করে তাকে স্বপদে পুনর্বহাল করতে হবে।
অধ্যাপক নুরুন্নবী আরও বলেন, এস আলম গ্রুপের হাতে থাকা ৮২ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে ব্যাংকের মূলধন সমন্বয় করতে হবে এবং তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে ঋণের টাকা আদায় করতে হবে। একইসঙ্গে ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্টের ১৮ নম্বর ধারা বাতিল করতে হবে, যা ঋণখেলাপিদের পরিচালনা পর্ষদে আসার সুযোগ করে দেয়। এ ছাড়া, ব্যাংক লুটপাট ও অর্থ পাচারের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করে স্পেশাল ট্রাইবুনালের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
ফোরামের আহ্বায়ক বলেন, গ্রাহক ফোরাম এই দাবি আদায়ে সারা দেশে ইসলামী ব্যাংকের শাখাগুলোতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি স্বার্থে নয় বরং দেশের অর্থনীতি এবং ব্যাংক ব্যবস্থাকে বাঁচানোর লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির...
দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবারও বাস পড়ল নদীতে
দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবারও বাস...
নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি রাস্তায় রোপণ হবে হাজারো কৃষ্ণচূড়ার চারা
নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি রাস্তায় রোপণ হবে হাজারো...
শেরপুরে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু
শেরপুরে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু
গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা
গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা
জেলা ইমাম সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত
জেলা ইমাম সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত