
মজিবুর রহমান,নেত্রকোণাঃ হাওরাঞ্চলের একমাত্র বোরো ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী ও মদন উপজেলার কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে খরার পর বর্তমানে টানা শিলাবৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় ও অতিবৃষ্টিতে হাজারো হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, বছরের ছয় মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকা হাওরাঞ্চলে বোরো ফসলই কৃষকদের একমাত্র ভরসা। এই ফসলের ওপরই নির্ভর করে তাদের সারা বছরের জীবিকা।
কৃষকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির অভাবে খরায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে চৈত্রের মাঝামাঝি থেকে প্রায় প্রতিদিনই শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানছে। এতে ধানগাছে শীষ আসার সময় গাছ হেলে পড়ছে এবং ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে অতিবৃষ্টির কারণে হাওরের ভেতরের খাল-বিল পানিতে ভরে অনেক জমি তলিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বেরিবাঁধের বাইরে জোয়ারের পানির চাপেও ফসল হুমকির মুখে পড়েছে।
কাদিরপুর গ্রামের কৃষক হেমেন্দ্র সরকার জানান, ধানের শীষ বের হওয়ার সময় ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে অনেক ধানগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া বৈশাখে রোদ কম থাকলে ধান শুকানো নিয়েও সমস্যায় পড়তে হবে।
রোয়াইল গ্রামের কৃষক নিতেশ তালুকদার বলেন, ঝড়-বৃষ্টি বেশি হলেও ধানের অবস্থা এখনও ভালো আছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করা যাচ্ছে।
খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২০ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন। অতিবৃষ্টির পানিতে ৫ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে এবং প্রায় ২০০ হেক্টর জমির ফসল আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে।
মোহনগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিকুর রহমান জানান, উপজেলায় ১৭ হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। প্লাবিত এলাকার পানি দ্রুত সরানোর চেষ্টা চলছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৪১০ মেট্রিক টন।
মদন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মিজান জানান, উপজেলায় ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। অতিবৃষ্টিতে ৩ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে এবং শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা চন্দন কুমার মহাপাত্র জানান, অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে কিছু ফসলের ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েকটি এলাকায় পানি ঢুকেছে। তবে দ্রুত পানি অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফসল রক্ষায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া না হলে ফসলের বড় কোনো ক্ষতি হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
লোহাগড়ায় টর্চলাইট জ্বালিয়ে দু’গ্রুপে সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত ১৫,বাড়ি-ঘর...
লোহাগড়ায় টর্চলাইট জ্বালিয়ে দু’গ্রুপে সংঘর্ষে মহিলাসহ...
সরাইলে”র প্রধান সড়কের বেহাল দশা, জনদূর্ভোগ
সরাইলে”র প্রধান সড়কের বেহাল দশা, জনদূর্ভোগ
আবু সাঈদ ময়মনসিংহ বিভাগের শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত
আবু সাঈদ ময়মনসিংহ বিভাগের শ্রেষ্ঠ সহকারী...
ধামইরহাটে মিটারের ত্রুটির অভিযোগে ১ লাখ ৬০ হাজার...
ধামইরহাটে মিটারের ত্রুটির অভিযোগে ১ লাখ...
সাপাহার সীমান্তে নারী পুরুষ ও শিশু সহ ১৭...
সাপাহার সীমান্তে নারী পুরুষ ও শিশু...
নড়াইলের নলিয়া নদীতে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার
নড়াইলের নলিয়া নদীতে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ...