• খুলনা দেশজুড়ে
  • পাইকগাছায় পাখির জন্য বাঁধা মাটির পাত্রে- এবার কাঠবিড়ালির বাসা

পাইকগাছায় পাখির জন্য বাঁধা মাটির পাত্রে- এবার কাঠবিড়ালির বাসা

প্রকাশিত: ১:৩২ অপরাহ্ণ , ২১ নভেম্বর ২০২৫, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 7 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

পাইকগাছায় পাখির জন্য গাছে বাঁধা মাটির পাত্র এখন শুধু পাখিরই নয়—কাঠবিড়ালিরও নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বনবিবি’ কর্তৃক স্থাপিত এসব পাত্রে সম্প্রতি কাঠবিড়ালি বাসা বেঁধেছে বলে জানা গেছে।

কাঠবিড়ালিরা সাধারণত নারকেল, সুপারি, খেজুরসহ উঁচু গাছে নরম জিনিসপত্র দিয়ে গোলাকৃতি বাসা তৈরি করে বংশবিস্তার করে। তবে এ বছর প্রথমবারের মতো নতুন বাজারের পাশের দেবদারু গাছ ও গোপালপুর স্কুলসংলগ্ন মেহগনি গাছে বাঁধা মাটির পাত্রে কাঠবিড়ালির বাসা তৈরির ঘটনা স্থানীয়দের বিস্মিত করেছে।

‘বনবিবি’ সংগঠনটি এ বছর উপজেলার বিভিন্ন গাছে প্রায় দুই হাজার আট শতাধিক মাটির পাত্র, ছোট ঝুড়ি ও বাঁশের তৈরি বাসা স্থাপন করেছে। ইতোমধ্যে এসব বাসায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ডিম পেড়েছে ও বাচ্চা ফুটিয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি সাংবাদিক, কলামিস্ট ও পরিবেশকর্মী প্রকাশ ঘোষ বিধান জানান, পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি—এটাই ছিল আমাদের স্বপ্ন। এখন তা বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে। পাখির পাশাপাশি কাঠবিড়ালিও বাসা বানানোয় আমাদের সদস্যদের উৎসাহ আরও বেড়েছে।

গাছে গাছে বাঁধা এসব বাসা দেখে স্থানীয় মানুষও ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। পাখি ও ছোট প্রাণীর জন্য নিরাপদ আবাস গড়ে উঠতে দেখে তাদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব মনোভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, বড় গাছপালা নির্বিচারে নিধনের ফলে দেশের আবাসিক পাখির প্রজনন ও বাসস্থান সংকট বাড়ছে। শিকারি, কৃষকের অসচেতনতা এবং জেলেদের অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ডেও পাখি ও বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য হুমকির মুখে।

এ অবস্থায় পাইকগাছার এই উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব কর্মকাণ্ডের একটি সফল নমুনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও অনুসরণযোগ্য বলে মনে করছেন প্রকৃতি প্রেমীরা।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর