ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শহর আওয়ামী লীগ নেতার ছেলেকে গুলি করে হত্যা

প্রকাশিত: ১২:২০ পূর্বাহ্ণ , ২৮ নভেম্বর ২০২৫, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 6 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়া সুপরিওলা বাড়ির সামনে ২৮ শে নভেম্বর শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল মস্তুর ছেলে মোহাম্মদ সাদ্দাম মিয়া (৩৭)। হঠাৎ গুলির শব্দে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের অভিযোগ বিএনপি’র রাজনৈতিক কোন্দলই হত্যার কারণ নিহত সাদ্দামের বাবা শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল মস্তু অভিযোগ করে বলেন, “আমি আওয়ামী লীগ করি—এটাই আমার অপরাধ। রাজনৈতিক কোন্দলের কারণেই আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।

যারা আমাকে টার্গেট করতে পারেনি, তারা আমার সন্তানকে মেরে ফেলল তিনি আরও জানান, বিএনপি’র দুই গ্রুপের কারণে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে, তবে তদন্ত ছাড়া কিছু নিশ্চিত বলা সম্ভব নয়।

সাদ্দামের স্ত্রী ফারজানা আক্তার বলেন,“রাত একটা পর্যন্ত আমি আমার স্বামীর সঙ্গে ছিলাম। আমি ঘুমোতে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ পর একজন এসে খবর দেয়—‘ভাবি, বাইকে গুলি করেছে।’ ছুটে গিয়ে দেখি আমার স্বামী মাটিতে লুটিয়ে আছে। আমার শ্বশুরের অনেক শত্রু, রাজনৈতিক হিংসার কারণেই এই হত্যাকাণ্ড। মৃত সাদ্দাম দুইটি কন্যা সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি আজহারুল ইসলাম বলেন,
“ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত ছাড়া এ মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়। রাতের ঘটনায় দু’জন আহত অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, একজন মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হয়েছি।”

এলাকার সাধারণ মানুষ জানায়, সম্প্রতি লায়ন শাকিল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন দিলীপ মধ্যে টাকার ভাগাভাগি নিয়ে তীব্র উত্তেজনা চলছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরিত হন।

এরপর রাত ১২টার দিকে ফারুকীবাজারে মৃত সেলিম মিয়ার ছেলে রবিন ও তার ভাই রিপনকে মারধর করে ছিনিয়ে নেওয়া হয় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং একটি মোটরসাইকেল। একের পর এক ঘটনার ফলে এলাকায় চরম অস্থিরতা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি নিহত সাদ্দামের মৃত্যুর পর কান্দিপাড়া ও আশপাশের এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে এলাকায় একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় এলাকাজুড়ে

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শোক নেমে এসেছে সাদ্দামের পরিবারে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর