শার্শায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী পালণ

প্রকাশিত: ১২:৩৭ অপরাহ্ণ , ১৬ আগস্ট ২০২৬, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
সংগৃহীত ছবি।

মো. সাহিদুল ইসলাম শাহীন:- সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র চেয়ারপারসন, দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শার্শা উপজেলা বিএনপি’র উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৫টায় শার্শা উপজেলা বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
​বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব।

তিনি কেবল তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রীই নন, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর আপসহীন সংগ্রাম তাঁকে “গণতন্ত্রের মা” এবং “আপসহীন নেত্রী” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

১৯৪৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করা খালেদা জিয়া আজ দেশের মানুষের হৃদয়ে এক গভীর ভালোবাসার স্থান দখল করে আছেন।

​অনুষ্ঠানে শার্শা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু, বেনাপোল পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি এ কে এম আতিকুজ্জামান সনি, সহ-সভাপতি আবদার আলী এবং শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম চয়নসহ উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাও এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

​সভায় বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর বিএনপি যখন অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন দলের হাল ধরেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে বিএনপিকে সুসংগঠিত করেছেন এবং তিলে তিলে একে একটি শক্তিশালী জাতীয় রাজনৈতিক দলে পরিণত করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি বারবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সফল নেতৃত্ব দিয়েছে।”

​আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে ১৯৯১ সালের নির্বাচনের কথা, যেখানে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি বিপুল বিজয় অর্জন করে। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর শাসন আমলে দেশ শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন, এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে।

এছাড়া, ২০০১ সালে পুনরায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। খালেদা জিয়ার শাসন আমল ‘জাতীয়তাবাদী চেতনার জাগরণ’ এবং ‘গণতন্ত্রের স্বর্ণযুগ’ হিসেবে পরিগণিত হয়।

​বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ কারাবাস এবং তাঁর প্রতি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সমালোচনা করেন। তাঁরা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সব সময় অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করে দেশের মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন। এমনকি মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সাজা ভোগ করার পরও তাঁর আদর্শ ও মনোবল ক্ষুণ্ন হয়নি। তাঁর সাহসিকতা ও আপসহীন মনোভাব তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা।

​আলোচনা শেষে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়ায় উপস্থিত সকলে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি এবং জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করেন। মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং গণতন্ত্রের চূড়ান্ত মুক্তি প্রার্থনা করা হয়।

​বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকীতে শার্শা বিএনপির এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রতি দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।

অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, খালেদা জিয়া আজও দেশের রাজনীতিতে এবং মানুষের মনে এক অনন্য এবং অপরিহার্য ব্যক্তিত্ব।

তাঁর আদর্শ এবং সংগ্রাম বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে চিরকাল উজ্জল হয়ে থাকবে।

মন্তব্য লিখুন