শেরপুরে ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

প্রকাশিত: ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ , ১২ অক্টোবর ২০২৪, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

শাহরিয়ার মিল্টন,শেরপুর : স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় শেরপুর জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় জেলার ৪৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির আমন ধান ঢলের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার হেক্টর জমির সবজি আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ ৫শ কোটি টাকা। ভেসে গেছে হাজার হাজার ঘরবাড়ি ও পুকুরের মাছ।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর শেরপুরে ৩৩ হাজার ১৭৯টি পুকুরে মাছ চাষ করছেন ১৮ হাজার ১৩৫ জন চাষি। এরমধ্যে বন্যায় ভেসে গেছে ৭ হাজার ৩শ পুকুরের প্রায় শত কোটি টাকার মাছ। এদিকে বন্যায় নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার অন্তত ৬ হাজার ৫ শ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন হাজারো পরিবার।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মাটির ঘরে থাকা পরিবারগুলো। পানি কমায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজ ঘরে ফিরছেন মানুষ, ভেঙে যাওয়া ঘর থেকে প্রয়োজনীয় আসবাব উদ্ধারের চেষ্টা করছেন তাঁরা। একইসাথে রাস্তাঘাট বিনষ্ট হয়েছে। ডুবে থাকা অধিকাংশ রাস্তা থেকে পানি নেমে গেছে।

ভেসে উঠেছে বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটের ক্ষত চিহ্ন। ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে এলাকার শতশত পরিবার। এসব পরিবার দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও বন্যার পানিতে ডুবে নারী ও শিশুসহ মারা গেছেন ১২ জন।

এবারের ভয়াবহ বন্যায় জেলার পাঁচ উপজেলায় প্রায় দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। অনেকেই ধারদেনা করে আগাম জাতের সবজির আবাদ ও ধান রোপণ করেছিলেন। ফসল নষ্ট হওয়ায় ঋণগ্রস্ত কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে। প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক কৃষক ধানের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও এবার একেবারেই নিঃস্ব হ।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর শেরপুরে ৩৩ হাজার ১৭৯টি পুকুরে মাছ চাষ করছেন ১৮ হাজার ১৩৫ জন চাষি। এর মধ্যে বন্যায় ভেসে গেছে ৭ হাজার ৩০০ পুকুরের প্রায় শত কোটি টাকার মাছ। য়েছেন তারা।

নালিতাবাড়ী উপজেলার খলিশাকুড়া গ্রামের বাসিন্দা জুলহাস বলেন, ‘ঢলের পানিতে হাঁস, মুরগিসহ ঘরের সব ভাসায়া নিয়ে গেছে গা। ছোট ছোট পুলাপান নিয়া কোনো মতে জীবন বাঁচাইছি।

ঝিনাইগাতীর মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের ঝুলগাও গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার মিয়া বলেন, আমি সংসারে একাই রোজগার করি। ধারদেনা করে ১ একর জমিতে ধান আবাদ করেছিলাম। সব ডুবে পঁচে গেছে। এখন ঋণ কিভাবে পরিশোধ করবো আর সংসার কিভাবে চালাবো।

এ বিষয়ে জেলা খামারবাড়ির উপ-পরিচালক ড. সুকল্প দাস বলেন, অতি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চলতি আমন আবাদের সাড়ে ৯৩ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে ৪৭ হাজার হেক্টর জমির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবজি আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার হেক্টর। সব মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষতির পরিমাণ টাকার অংকে ৫শ কোটি টাকা।

বন্যার পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা সম্ভব হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে তাদের সার-বীজ দেওয়া হবে। এছাড়া কৃষকদের প্রণোদনা দেয়ার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে জানানো হবে।

শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির তালিকা তৈরির কাজ চলছে। ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে টিন ও নগদ অর্থ বরাদ্দ চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন