
শাহরিয়ার মিল্টন , শেরপুরঃ পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে সৌদি আরবের রিয়াদে পাড়ি দিয়েছিলেন রনি, কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। নির্মম সড়ক দুর্ঘটনায় জীবন থেমে গিয়ে শেষ পর্যন্ত কফিনবন্দি হয়ে বাড়ি ফিরলেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দিঘীরপাড় পালাপাড়া গ্রামের প্রবাসী মো. রনি মিয়া (৩০)। গত ২১ এপ্রিল সৌদি আরবের রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি।
মৃত্যুর ১১ দিন পর গতকাল শুক্রবার (২ মে) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দেশে পৌঁছায় ওই প্রবাসীর মরদেহ। পরে শনিবার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দিঘীরপাড় পালপাড়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়েছে। নিহত রনি ওই এলাকারই আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
এর আগে শুক্রবার রাতে বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণ শেষে গ্রামের বাড়িতে আনা হলে মুহূর্তেই নেমে আসে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ। প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী।
কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা; যেন এ একসাথে একটি গ্রাম শোক পালন করছে। বাবা মো. আব্দুর রাজ্জাক ও মা মল্লিকা বেগম শোকে বাকরুদ্ধ। মায়ের আহাজারি থামছেই না বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন তিনি।
স্ত্রী দিলরুবা আক্তারও যেন এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না যার সঙ্গে কিছুদিন আগেও স্বপ্নের কথা বলেছিলেন, সেই মানুষটি আজ নিথর হয়ে শুয়ে আছেন তার সামনে।
দুই শিশু সন্তান সুমাইয়া আক্তার (৭) ও মুফাসিনা আক্তার (৩) এখনো পুরো বাস্তবতা বুঝে উঠতে পারেনি। ছোট্ট সুমাইয়া আক্তার কখনো মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে, কখনো আশেপাশের কান্না দেখে বিস্মিত হয়। হয়তো সে এখনো বিশ্বাস করছে, বাবা একটু পরেই উঠে দাঁড়াবেন।
জানা গেছে, অভাবের সংসারে একটু স্বস্তি ফেরাতে এবং উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখে প্রথমে ২০২৪ সালে ফুড ডেলিভারির কাজে সৌদি আরবে যান রনি। কিন্তু মাস দুয়েকের মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন।
এরপর আবার ২০২৫ সালের অক্টোবরে ফিরে যান পরিবারের স্বপ্ন পূরণের পথে। কিন্তু সেই যাত্রা আর শেষ হলো না জীবনের আলো নিয়ে; শেষ হলো এক করুণ পরিণতিতে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস; গত ২১ এপ্রিল সৌদি আরবের রিয়াদে ওই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই নির্মমভাবে থেমে যায় তার জীবনসংগ্রাম।
রেখে গেলো ভেঙে যাওয়া একটি পরিবার, স্তব্ধ কিছু চোখ, আর না বলা অসংখ্য কষ্টের গল্প। নিহতের রনির স্ত্রী দিলরুবা আক্তার বলেন, ‘স্বামী হারিয়েছি, বিধবা হয়েছি। আমার সন্তানরা এতিম হয়েছে। এখন আমার সন্তানকে কীভাবে মানুষ করব। সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীন বলেন, ‘সৌদি আরবে এভাবে শ্রমিকের মৃত্যু বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। নিহতের পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করবে উপজেলা প্রশাসন।’
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
গোয়াইনঘাটে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
গোয়াইনঘাটে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
পূজায় সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া...
পূজায় সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করলে কঠোর...
সরকারি সেবার মান উন্নয়নে নালিতাবাড়ীতে গণশুনানি অনুষ্ঠিত
সরকারি সেবার মান উন্নয়নে নালিতাবাড়ীতে গণশুনানি...
শেরপুরে প্রতিবন্ধীদের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ
শেরপুরে প্রতিবন্ধীদের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ
শেরপুরে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডির চ্যাম্পিয়ন নকলা উপজেলা কাবাডি...
শেরপুরে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডির চ্যাম্পিয়ন নকলা...
মৌলভীবাজারে পাহাড়-টিলা কেটে গড়ে উঠছে রিসোর্ড, কোন অনুমোদন...
মৌলভীবাজারে পাহাড়-টিলা কেটে গড়ে উঠছে রিসোর্ড,...