• চট্রগ্রাম শীর্ষ সংবাদ
  • আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত লেখকদের কলম থামবে না: রাঙ্গামাটির সাহিত্য উৎসবে বক্তারা

আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত লেখকদের কলম থামবে না: রাঙ্গামাটির সাহিত্য উৎসবে বক্তারা

প্রকাশিত: ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ , ১৭ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

রাষ্ট্র আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত আদিবাসী লেখক, কবি ও সাহিত্যিকদের কলম থামবে না বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। একই সঙ্গে তাঁরা আদিবাসী ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে কার্যকর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আদিবাসীদের মধ্য থেকে একজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগের দাবি জানান।

শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) দিনব্যাপী রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ আদিবাসী কবি, লেখক সম্মিলন ও সাহিত্য উৎসব-২০২৬’-এ এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। ‘সাহিত্য হোক শিকড়ের ভাষা, সংস্কৃতি হোক আমাদের আত্মপরিচয় ও অস্তিত্ব’—এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত উৎসবে পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন অঞ্চলের আদিবাসী কবি, লেখক, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ আদিবাসী কবি, লেখক, সাহিত্যিক ঐক্য পরিষদ।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কবি, লেখক ও গবেষক সনাতন হামোম। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ও নাট্যকার মৃত্তিকা চাকমা। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আদিবাসী লেখক ফোরামের সাবেক সভাপতি ও কবি শিশির চাকমা এবং বিরিশিরি আদিবাসী কালচারাল একাডেমি, নেত্রকোনার পরিচালক পরাগ রিছিল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিভাগীয় আদিবাসী কালচারাল একাডেমি, রাজশাহীর পরিচালক হরেন্দ্র নাথ সিং এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত উপসচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা।

আলোচনায় অংশ নেন কবি, লেখক ও ভাষা গবেষক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা,শোয়েন নেডী, মেজর (অব.) ড. অজয় প্রকাশ চাকমা, প্রফেসর মধুমঙ্গল চাকমা, কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা, ড. আনন্দ বিকাশ চাকমা, কবি ও লেখক হাফিজ রশিদ খান, আনন্দ জ্যোতি চাকমা ও আলম সাইফুল।

বিজ্ঞান্তর তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইণ্টুমনি তালুকদার। খাগড়াছড়ি থেকে লেখক আর্য্যমিত্র চাকমা, লেখক ও উন্নয়নকর্মী জ্ঞানদর্শী চাকমা, সাংবাদিক ও লেখক পপেন ত্রিপুরা, লেখক কেবি দেবাশীষ চাকমা, বিপুল ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন জেলার সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, সংবিধানে সব ধর্মের সমান মর্যাদার কথা উল্লেখ থাকলেও ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আদিবাসীদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। এ কারণে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে একজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগের দাবি জানান তাঁরা।

এছাড়া বক্তারা অভিযোগ করেন, আদিবাসী ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে এবং অনেক ভাষা অস্তিত্বের সংকটে রয়েছে। ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ, গবেষণা এবং প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।

আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, রাষ্ট্র আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত তাঁদের দাবি আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং আদিবাসী লেখকদের কলম থামবে না। এ লক্ষ্য অর্জনে সকল আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বানও জানান তাঁরা।

অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় ছিল বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম (পার্বত্য চট্টগ্রাম-ক অঞ্চল), রেগা প্রকাশনী, থকবিরিম, কথা এবং আদিবাসী পাহাড়ী বৈদ্য শাস্ত্রীয় বহুমুখী কল্যাণ সমিতি।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর