আদিবাসী তরুণদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি নথিভুক্তকরণে প্রশিক্ষণ শুরু

প্রকাশিত: ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ , ২৮ আগস্ট ২০২৬, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 month আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

আদিবাসী তরুণ লেখক, গবেষক ও সমাজকর্মীদের নিজস্ব ভাষা, মৌখিক ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক উপাদান ও সম্প্রদায়গত জ্ঞান নথিভুক্তকরণে দক্ষতা বাড়াতে তিন দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঢাকায় ‘Documenting Our Own Voices: Language and Cultural Documentation Training for Young Indigenous Activists’ শীর্ষক এ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।

আন্তর্জাতিক আদিবাসী ভাষা দশক (IDIL 2022–2032) কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট (IMLI), জাবারাং কল্যাণ সমিতি ও মালেয়া ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করেছে। কর্মশালা চলবে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান ড. সুসান ভাইজ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক আবুল কালাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মনিরা বেগম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা। সঞ্চালনা করেন ড. হরিপূর্ণ ত্রিপুরা।

উদ্বোধনী পর্বে বক্তারা বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় ভাষা সংরক্ষণ এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি নথিভুক্তকরণে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশের বহুভাষিক বাস্তবতা, ভাষার বিপন্নতার কারণ এবং তা মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

কর্মশালায় বাংলাদেশের ভাষা পরিস্থিতি, ভাষার বিপন্নতা ও মৌখিক সাহিত্য, সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান, এথনোগ্রাফিক পদ্ধতি, গবেষণা নৈতিকতা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

পাশাপাশি অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং, ট্রান্সক্রিপশন ও ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির ব্যবহারিক বিষয়েও অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেওয়া হবে।

আয়োজকেরা জানান, কর্মশালায় অংশ নেওয়া তরুণরা নিজ নিজ সম্প্রদায়ের গল্প, গান, রূপকথা, ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও জীবন-ইতিহাস নথিভুক্ত এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণের পদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।

তিন দিনের প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঠপর্যায়ের কাজের যৌথ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে এবং সনদপত্র দেওয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর