
বাংলাদেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব ও পরিচয় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশের ৪৪ জন নাগরিক।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা দুই মন্ত্রীর বক্তব্যকে সংবিধান, আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেন।
একই সঙ্গে বক্তব্য প্রত্যাহার করে এ নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করার আহ্বান জানান তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১১ আগস্ট ঢাকায় ‘বাংলাদেশের জন্য আদিবাসী পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় দুই মন্ত্রী বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী জনগোষ্ঠী নেই এবং সবাইকে কেবল বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করার কথা বলেছেন বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তারা জানতে পেরেছেন।
তথ্যমন্ত্রীও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘আদিবাসী’ শব্দটি অপ্রাসঙ্গিক বলে মন্তব্য করেছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
নাগরিকদের দাবি, আদিবাসী পরিচয় ও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরস্পরবিরোধী নয়। বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্যরা একই সঙ্গে বাংলাদেশের নাগরিক এবং স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠীর অংশ।
সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদে ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ আইএলও কনভেনশন ১৬৯ অনুসমর্থন না করলেও ১৯৫৭ সালের আইএলও কনভেনশন ১০৭ অনুসমর্থন করেছে। তাই আদিবাসী ও ট্রাইবাল জনগোষ্ঠীর পরিচয়, সংস্কৃতি, প্রতিষ্ঠান, ঐতিহ্যগত ভূমির অধিকার ও আত্মপরিচয় সুরক্ষার বিষয়ে বাংলাদেশের দায়বদ্ধতা রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৯৭ ধারাসহ বিভিন্ন আইন ও নীতিমালায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সুরক্ষার বিষয় উল্লেখ রয়েছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়। জাতিসংঘের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দলিল ও চুক্তিতেও বাংলাদেশের স্বাক্ষর ও অঙ্গীকারের বিষয় তুলে ধরেন তারা।
বিবৃতিতে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সমন্বয়ে বাংলাদেশকে ‘রেইনবো নেশন’-এ রূপান্তরের অঙ্গীকারের কথাও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ২০০৩ সালের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের বাণীতে বাংলাদেশের আদিবাসীদের দেশের জনগোষ্ঠীর অংশ এবং সমান মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
৪৪ নাগরিক বলেন, দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশের সংবিধান, রাষ্ট্রীয় আইন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনমনে সৃষ্ট সংশয় ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটানোর দাবি জানান তারা।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, ড. সামিনা লুৎফা ও ড. জোবাইদা নাসরীনসহ বিভিন্ন পেশা ও অধিকার সংগঠনের ৪৪ জন ব্যক্তি।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
পাইকগাছায় গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
পাইকগাছায় গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
বাকেরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত কারেন্ট জাল পুড়িয়ে...
বাকেরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত কারেন্ট...
সাপাহারে শিরন্টি ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহজাহান আলীর গণসংযোগ
সাপাহারে শিরন্টি ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহজাহান...
শেরপুর ডপস সদস্যদের মূল্যায়ন পরীক্ষা ও শিক্ষা উপকরণ...
শেরপুর ডপস সদস্যদের মূল্যায়ন পরীক্ষা ও...
শেরপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এমপি রাশেদের...
শেরপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে...
জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমদাদুল হক ইমদাদ: বেনাপোলে বইছে পরিবর্তনের...
জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমদাদুল হক ইমদাদ: বেনাপোলে...