
মজিবুর রহমানঃ নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ছাড়পত্র ছাড়াই গবাদিপশু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও পৌরসভার কার্যকর তদারকি না থাকায় বছরের পর বছর ধরে নিয়ম না মেনেই চলছে এ ব্যবসা। এতে জবাই করা পশু রোগাক্রান্ত ছিল কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দুয়া পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রায় এক ডজন মাংসের দোকান রয়েছে। এসব দোকানে প্রতিদিন গড়ে ৯ থেকে ১০টি গরু ও ছাগল জবাই করা হয়।
তবে শুক্রবারসহ সরকারি ছুটির দিনগুলোতে জবাইয়ের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সুস্থতার ছাড়পত্র দেওয়ার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তা নিয়মিতভাবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
জবাই করা পশু সুস্থ ছিল কি না, তা জানার সুযোগ থাকে না অধিকাংশ ক্রেতার। সংশ্লিষ্টদের মতে, পশু জবাইয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হলে রোগাক্রান্ত পশু শনাক্ত করা সম্ভব। কিন্তু স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও তদারকির ঘাটতির কারণে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় মাংস ব্যবসায়ীরা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে তারাও নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে চান। তাদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিয়মিত কোনো কর্মকর্তা বা চিকিৎসক বাজারে এসে পশু পরীক্ষা করেন না।
কেন্দুয়া পৌরশহরের মাংস ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, আমরা সুস্থ-সবল ও রোগমুক্ত পশু জবাই করি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ছাড়পত্র দিলে ভালো হতো। কেউ আসেন না বলেই আমরাও ছাড়পত্রের প্রয়োজন মনে করছি না।
মাংস ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরা গরুর মাংস বিক্রির যে অভিযোগ উঠেছে, ওই ব্যবসায়ী তার ভাই। তিনি মূলত খাসির মাংসের ব্যবসা করেন এবং মাঝে মধ্যে গরু জবাই করেন।
বর্তমানে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, প্রশাসন নিয়মিত তদারকি করলে তারা শতভাগ আইন মেনে ব্যবসা করতে প্রস্তুত।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেন্দুয়া পৌরশহরের এক মাংস ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মরা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান বলেন, কোনো মাংস ব্যবসায়ীরই লাইসেন্স নেই। প্রতিদিন বাজারে গিয়ে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার মতো জনবল আমাদের নেই।
আমরা প্রায়ই মাংস ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি। কিন্তু তারা ব্যস্ততার অজুহাতে প্রশিক্ষণে আসতে চান না।
তিনি আরও বলেন, অসুস্থ প্রাণীর মাংস নিঃসন্দেহে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায়।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক সানজিদা চৌধুরী বলেন, আলোচিত বিষয়টি নিয়ে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। এব্যাপারে নজরদারির আরও বাড়াবেন বলে জানান তিনি।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
পাইকগাছায় গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
পাইকগাছায় গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
বাকেরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত কারেন্ট জাল পুড়িয়ে...
বাকেরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত কারেন্ট...
সাপাহারে শিরন্টি ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহজাহান আলীর গণসংযোগ
সাপাহারে শিরন্টি ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহজাহান...
শেরপুর ডপস সদস্যদের মূল্যায়ন পরীক্ষা ও শিক্ষা উপকরণ...
শেরপুর ডপস সদস্যদের মূল্যায়ন পরীক্ষা ও...
শেরপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এমপি রাশেদের...
শেরপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে...
জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমদাদুল হক ইমদাদ: বেনাপোলে বইছে পরিবর্তনের...
জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমদাদুল হক ইমদাদ: বেনাপোলে...