খাগড়াছড়িতে দিনব্যাপী তথ্য মেলা: জনসচেতনতা ও সেবায় গতি সঞ্চার

প্রকাশিত: ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ , ২৭ নভেম্বর ২০২৪, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর যৌথ উদ্যোগে বুধবার (২৭ নভেম্বর, ২০২৪) দিনব্যাপী তথ্য মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলার মূল লক্ষ্য ছিল জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি সেবাসমূহের কার্যক্রম জনগণের সামনে তুলে ধরা।

খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হলে আয়োজিত মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ সহিদুজ্জামান। রঙিন বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালি শেষে তথ্য অধিকার বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সনাক সহ-সভাপতি বেলা রানী দাশ সভাপতিত্ব করেন এবং টিআইবি-খাগড়াছড়ির কো-অর্ডিনেটর মোঃ আবদুর রহমান সভা পরিচালনা করেন।

সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোঃ আরেফিন জুয়েল, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ ফরিদ মিঞা, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ রতন খীসা, পৌর প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, এবং প্রেসক্লাবের সহসভাপতি মোঃ জহুরুল আলম। আলোচনায় বক্তারা তথ্যের গুরুত্ব, নাগরিক অধিকার এবং সেবার মান উন্নয়নে তথ্যের ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করেন। মেলায় অংশগ্রহণ ও সেবার প্রদর্শনী।

মেলায় জেলা পর্যায়ের ২৭টি সরকারি দপ্তর এবং ৩টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা স্টল প্রদর্শন করে। প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিরা স্টল পরিদর্শনকালে নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন এবং উদ্ভাবনী পরামর্শ প্রদান করেন।

তথ্য মেলা উপলক্ষে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সদর হাসপাতালের প্রতিনিধিসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও মেলায় স্যাটেলাইট ক্যাম্প পরিচালিত হয়, যেখানে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরামর্শ গ্রহণের সুযোগ পান।

তথ্য মেলায় যুব উন্নয়ন কার্যক্রম উপস্থাপন, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং নাগরিক সেবা বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সেশন আয়োজন করা হয়। মেলার সমাপনী পর্বে পুরস্কার বিতরণ এবং একটি মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি শেষ হয়।

মেলার বিশেষ আকর্ষণ ছিল সনাকের সক্রিয় অংশগ্রহণ। তথ্য অধিকার আইন এবং সেবার মান উন্নয়নে সনাকের প্রচেষ্টা উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

মেলার আয়োজকরা জানান, এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে করা হলে নাগরিক সেবা আরও দক্ষ এবং স্বচ্ছ হবে। এটি জনসাধারণের মধ্যে তথ্যের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।