খাগড়াছড়িতে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ , ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

পার্বত্য অঞ্চলে টেকসই কৃষি ব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা জোরদারে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ৪নং পেরাছড়া ইউনিয়নের কাপতলা পাড়ায় প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি (PIC) সদস্যদের নিয়ে এক অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এ কর্মসূচির আয়োজন করে জাবারাং কল্যাণ সমিতি এবং সহযোগিতা প্রদান করে Tebtebba Foundation। এটি TESTEBBA–JLIFAD এর আওতায় বাস্তবায়িত “3197-ST-NRM (Revival of Traditional Crops and Sustainable Technologies for a Resilient Food System and Sustainable Natural Resources Management)” শীর্ষক প্রকল্পের অংশ।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই কৃষি পদ্ধতি ও জৈব সার ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। এ সময় কাপ্তলা পাড়ার কৃষক প্রভাংশু ত্রিপুরা ট্রাইকো-কম্পোস্ট সার তৈরির সফল অভিজ্ঞতা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন।

তিনি জানান, এই জৈব সার ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে ট্রাইকো-কম্পোস্ট পরিবেশবান্ধব ও ব্যয় সাশ্রয়ী হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এর আগ্রহ বাড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অভিজ্ঞতা বিনিময় সফরটি পরিচালনা করেন দয়ানাথ রোয়াজা, প্রজেক্ট অফিসার, এসটি-এনআরএম প্রকল্প। তিনি বলেন, “এই ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জ্ঞান ও চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

তিনি আরও জানান, আদি ফসল সংরক্ষণ, চিরায়ত প্রযুক্তির পুনরুজ্জীবন এবং আধুনিক পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতির সমন্বয়ই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

সফরে অংশগ্রহণকারী PIC সদস্যরা ট্রাইকো-কম্পোস্ট সার উৎপাদন পদ্ধতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং ভবিষ্যতে নিজেদের জমিতে এই পদ্ধতি প্রয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আলোচনা পর্বে ঐতিহ্যবাহী ফসল পুনরুজ্জীবন, জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগ, মাটি ও পানিসম্পদ সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় কৃষক প্রতিনিধি ও PIC সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।