খাগড়াছড়িতে শিশু সুরক্ষায় শুরু হচ্ছে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন

প্রকাশিত: ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ , ১৯ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়িঃ খাগড়াছড়িতে শিশুদের সুরক্ষায় জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) সকালে খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রতন খীসা, মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. খায়রুল বাশার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. উৎপল চাকমা, খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুস সামাদসহ জেলা প্রেসক্লাব ও খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ক্যাম্পেইনের সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. অর্ণব চাকমা।

জানা যায়, আগামীকাল সোমবার ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে ২০২৬ পর্যন্ত মোট ১১ দিনব্যাপী এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে, যার মধ্যে ৩ দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং ৮ দিন কমিউনিটি পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

এ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস (১৮০ দিন পূর্ণ) থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকা প্রদান করা হবে। জেলায় মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৯ হাজার ৪৩২ জন শিশুকে, যার মধ্যে ছেলে ৩৯ হাজার ৭৪৫ জন এবং মেয়ে ৩৯ হাজার ৬৮৭ জন।

এর মধ্যে কমিউনিটি পর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা ৬৮ হাজার ৭২০ জন (ছেলে ৩৪ হাজার ৩৯৮ জন, মেয়ে ৩৪ হাজার ৩২২ জন) এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার ৭১২ জন (ছাত্র ৫ হাজার ৩৪৭ জন, ছাত্রী ৫ হাজার ৩৬৫ জন)।

টিকাদানের জন্য জেলায় মোট ১ হাজার ৫১৯টি কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭৪টি বিদ্যালয় কেন্দ্র, ৯৪৫টি কমিউনিটি কেন্দ্র (যার মধ্যে ৭৮টি দুর্গম এলাকায়) এবং ৯টি স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক ও ঝুঁকিপূর্ণ রোগ। এ রোগ প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। পূর্বে টিকা গ্রহণ করে থাকলেও নির্ধারিত বয়সের সকল শিশুকে এই ক্যাম্পেইনে পুনরায় টিকা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ রতন খীসা জানান, হাম থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এনসেফালাইটিসসহ বিভিন্ন জটিলতা এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে রুবেলা গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে গর্ভপাত বা জন্মগত ত্রুটির কারণ হতে পারে, যা কনজেনিটাল রুবেলা সিনড্রোম (সিআরএস) নামে পরিচিত।

ক্যাম্পেইন চলাকালে নির্ধারিত দিনে টিকা গ্রহণে ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে নিকটস্থ স্থায়ী বা অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকা নেওয়া যাবে বলেও জানানো হয়। এছাড়া অনলাইন নিবন্ধন বা টিকা কার্ড না থাকলেও শিশুদের টিকা প্রদান করা হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সকল অভিভাবককে কোনো ধরনের গুজব বা কুসংস্কারে বিভ্রান্ত না হয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।