গুইমারায় তিন ব্যক্তির স্মরণে সম্মান প্রদর্শন ও স্মরণসভা

প্রকাশিত: ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 weeks আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

খাগড়াছড়ির গুইমারায় ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রামেসু বাজারের ঘটনায় নিহত আক্রই, আথুই ও থৈইচিং মারমার স্মরণে সম্মান প্রদর্শন ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রামেসু বাজারসংলগ্ন এলাকায় শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদ ও ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

‘গুইমারা ছাত্র-যুবসমাজের গর্ব তিন বীর শহীদকে স্যালুট—জনগণের জন্য যারা জীবন দেন, তাদের স্মৃতি অম্লান’—স্লোগানে আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা।

বক্তব্য দেন শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের সভাপতি রূপসি চাকমা, লক্ষীছড়ির ১ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রবীল কুমার চাকমা, লক্ষীছড়ি কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রতন বিকাশ চাকমা, সিন্দুকছড়ির সাবেক ইউপি সদস্য সুধুঅং মারমা ও দূল্যাতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ত্রিলোন চাকমা।

সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি রেশমি মারমা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনজনের প্রতিকৃতি স্থাপন করে অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও শিশু-কিশোররা এতে অংশ নেন। পরে সাইরেন বাজিয়ে দুই মিনিট নীরবতা পালন এবং শপথ পাঠ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

বক্তারা ২০২৫ সালের রামেসু বাজারের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর নিহত জুনান চাকমা ও রুবেল ত্রিপুরাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ঘটনায় নিহতদের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

শহীদ জুনান চাকমার মা রূপসি চাকমা তাঁর ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় এখনো বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি জুনান, রুবেল, অনিক, ধনঞ্জয় ও রামেসু বাজারের ঘটনার বিষয়ে দ্রুত তদন্তের দাবি জানান।

লক্ষীছড়ির ইউপি চেয়ারম্যান প্রবীল কুমার চাকমা বলেন, রামেসু বাজারের ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণের দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, ভূমি এবং নাগরিক অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরেন। তাঁরা বিভিন্ন ঘটনায় অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে উষাতন চাকমা রামেসু বাজারের ঘটনার বিচার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে শান্তি ও সম্প্রীতি জোরদার করা প্রয়োজন।

স্মরণসভায় আগামী ১৩ অক্টোবর ভরদ্বাজ মুনির স্মরণে কনভেনশন আয়োজনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের পরিবেশনায় একটি নাট্য প্রদর্শনী হয়। পরে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রতিকৃতি ও কুশপুত্তলিকায় প্রতীকী প্রতিবাদ জানানো হয়।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর