• খুলনা দেশজুড়ে
  • ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মৎস্য কর্মকর্তারনহামলা ও মামলার

ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় মৎস্য কর্মকর্তারনহামলা ও মামলার

প্রকাশিত: ২:১৯ অপরাহ্ণ , ৩০ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

নড়াইল সদরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানের বিরুদ্ধে ঘুষের টাকা আত্মসাৎ, মারধর ও মিথ্যা মামলা দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা। প্রদর্শনী বরাদ্দের নামে নেয়া ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এই হামলা ও ভিত্তিহীন মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে সদরের যদুনাথপুর গ্রামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জিসানুর রহমান। জিসানুর সদরের যদুনাথপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগরে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জিসানুর অভিযোগ করেন, গ্রামের কৃষক শ্রেণির লোকজন নিয়ে তার ওঠাবসা। বিভিন্ন সময়ে উপজেলা অফিসে কাজের সুবাদে মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের সাথে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে প্রদর্শনী দেয়ার আশ্বাসে তিনি জিসানকে দিয়ে চারটি আবেদন করান।

বাঁশগ্রাম, শেখহাটি, মুলিয়া ও তুলারামপুর ইউনিয়নের মোট চারটি আবেদনের বিপরীতে প্রদর্শনীগুলোর বরাদ্দে বিভিন্ন খরচ বাবদ মৎস্য কর্মকর্তা ৩০ হাজার টাকা নেন।

জিসান আরও বলেন, ‘মুলিয়া ইউনিয়নের একটি ছাড়া আর বাকি তিনটির বরাদ্দ তিনি দেননি। এমনকি মুলিয়া ইউনিয়নের বরাদ্দকৃত প্রদর্শনীর টাকা থেকেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে টাকা রেখে দেন। খামারিদের কাজ না করায় টাকা ফেরত চাইলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেশ কয়েক দফায় ঘোরান।’

জিসান অভিযোগ করেন, সবশেষ রোববার (২৮ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের অফিসে গিয়ে কাজ না করে দেয়ায় ঘুষের টাকা ফেরত চান তিনি। টাকা ফেরত চাইতেই তিনি উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

টাকা নেয়ার প্রমাণ দিতে বলে মৎস্য কর্মকর্তা তাকে অফিস থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। গালিগালাজের পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ‘আগে পুলিশ মেরে পুলিশের চাকরি ছাড়ছি, দরকার হলে এবার তোকে মেরে এ চাকরিও ছাড়ব।’

এ ধরনের ব্যবহারের কারণে জিসান মোবাইল ফোনে সব রেকর্ড করছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মৎস্য কর্মকর্তা তার চেয়ার থেকে উঠে এসে ফোনটি হাত থেকে কেড়ে নিয়ে আছাড় মেরে ভেঙে ফেলেন বলে দাবি করেন জিসান। এ সময় তার অফিসের স্টাফ তকদির, দীপু ও জামশেদ এসে জিসানকে মারধর শুরু করেন।

ধস্তাধস্তির মধ্যে রায়হানের হাতের ধাক্কায় তার টেবিলে থাকা মনিটর পড়ে যায় এবং তারা সবাই মিলে জিসানকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। তার টেবিলে থাকা পেপার ওয়েট দিয়ে বুকে-পিঠে আঘাত করার পাশাপাশি গলায় থাকা সাড়ে ৬ আনার স্বর্ণের চেইন ছিঁড়ে নেয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন জিসান।

জিসান আরও অভিযোগ করেন, মারধরের পর উল্টো তার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা করেছেন ওই কর্মকর্তা। তিনি নিজে থানায় গিয়ে মামলা করতে চাইলে থানা থেকে জানানো হয়, সাক্ষী ছাড়া মামলা হবে না।

এদিকে জিসানুরের অভিযোগের সত্যতা জানতে মঙ্গলবার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু রায়হানের কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায় তিনি ছুটিতে আছেন। তবে জিসানের সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তার সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি কোনো ঘুষের টাকা নিইনি।’

এর আগে, গত রোববার (২৮ জুন) রাতে অফিস কক্ষে প্রবেশ করে ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধাদান ও কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ এনে জিসানুরসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে নড়াইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মৎস্য কর্মকর্তার এজাহারের ভিত্তিতে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর