
মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীন:- আগামী বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রচার-প্রচারণায় মুখর প্রার্থীরা। তবে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের মুখে যে নামটি বার বার উঠে আসছে, তিনি হলেন গরীব-দুঃখী ও অসহায় মানুষের বন্ধু হিসেবে পরিচিত সমাজসেবী এবং আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী নাজমা আক্তার।
নিরবে-নিভৃতে দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোলবাসীর সেবা করে আসছেন তিনি। মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়, সঠিক বিচার নিশ্চিত করা এবং নিজেকে জনসাধারণের সেবায় সম্পূর্ণরূপে নিয়োজিত করার মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর এই আত্মপ্রকাশ এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
নাজমা আক্তার শুধুমাত্র নির্বাচনের আগেই নয়, সারা বছরই মানুষের পাশে থাকেন। কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত তিনি বেনাপোলের ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন গ্রাম ও মহল্লায় ঘুরে বেড়ান, সাধারণ মানুষের খোঁজ-খবর নেন। সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের জন্য তাঁর সাহায্যের হাত সবসময়ই প্রসারিত থাকে। এখন মানুষের সেবা করাই তাঁর জীবনের একমাত্র ব্রত এবং লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি (২৪ জুন/২০২৬) তিনি বেনাপোল পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের দিঘির পাড় গ্রামের বসির চাচার মেয়ে সাহিদার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রতিবেদকের সাথে একান্ত আলাপকালে তিনি তাঁর জীবনের নানা চড়াই-উতরাই, অনুপ্রেরণা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
বসির চাচা ছিলেন নাজমা আক্তারের একজন নিবেদিতপ্রাণ সমর্থক। গতবারের নির্বাচনে তিনি নাজমা আক্তারের পক্ষে দিন-রাত কাজ করেছিলেন। বসির চাচার সাথে তাঁর সম্পর্কের কথা মনে করে নাজমা আক্তার আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন। বসির চাচা একবার তাঁকে বলেছিলেন, “নাজমা, তোমার মত মানুষেরই দরকার। কিন্তু হায়েনার দল সেটা হতে দেবে না। তবে তুমি চেষ্টা চালিয়ে যাও, এক সময় না এক সময় ঠিকই সফল হবে।”
একজন সাধারণ, অল্প শিক্ষিত মানুষের এই মূল্যবান কথাগুলো নাজমা আক্তারকে আজও অনুপ্রাণিত করে। বসির চাচার স্নেহ এবং ভালবাসার কথা মনে করে তিনি বলেন, “চাচাজান আজ বেঁচে নেই। থাকলে হয়তো আবার দেখা হতো, আমাকে সাহস দিতেন। আল্লাহ চাচার সকল গুনাহ মাফ করে দিয়ে বেহেস্ত নসীব করুন। আমিন।”
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নাজমা আক্তার বলেন, “নির্বাচনে নেমে ভালোই হয়েছে। অলিতে-গলিতে ঘুরতে গিয়ে অনেক পুরনো মানুষের সাথে দেখা হচ্ছে, সবার সাথে সম্পর্ক নতুন করে ঝালাই হচ্ছে। অবসর জীবনে ঘরে বসে নিস্তেজ হয়ে থাকার চেয়ে মানুষের মাঝে থাকা অনেক ভালো।”
পৌরসভার দায়িত্ব পালন নিয়ে তিনি তাঁর পরিপক্ক চিন্তাভাবনা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “বেনাপোল পৌরসভার দায়িত্ব পালনের জন্য কেউ না কেউ তো মেয়র হবেন। নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকবেন এবং জনগণ যাঁকে ভোট দেবেন তিনিই নির্বাচিত হবেন। আমিও তেমনই একজন সাধারণ মেয়র পদপ্রার্থী। আমি শুধু চাই মানুষের সেবা করার একটি সঠিক প্ল্যাটফর্ম।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর জনপ্রিয়তা ও অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি ফেসবুকে নিয়মিত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে পোস্ট করি এবং অনেক ভালো সাড়া পাই। অনেকেই দেখা হলে বলেন যে তাঁরা আমার লেখা পড়েন এবং পছন্দ করেন। এটি আমাকে খুব উৎসাহিত করে।”
তবে, কিছু মানুষের নেতিবাচক আচরণে তিনি ক্ষোভও প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দু-একজন মানুষ আছে যারা আমার ছোট্ট কোনো লেখার উপর ভিত্তি করে আজেবাজে প্রশ্ন করে আমাকে নাজেহাল করার চেষ্টা করে। তাদের উদ্দেশ্য সম্ভবত আমাকে হেনস্থা করা। আমি কি কারো শত্রু? কেন তারা এমন করে বুঝতে পারি না। নির্বাচন করতে এসেই কি আমি কারো শত্রু হয়ে গেলাম?”
আলাপের এক পর্যায়ে নাজমা আক্তার তাঁর ব্যক্তি জীবন এবং আজকের ‘নাজমা’ হয়ে ওঠার গল্প শোনান। তিনি জানান, আজকের এই ব্যক্তিত্ব একদিনে তৈরি হয়নি। তাঁর নানি, বাবা, চাচা এবং মা-এর দেওয়া শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ফলেই তিনি আজ এতটা দৃঢ় হতে পেরেছেন।
তাঁর শৈশব ছিল বেশ বৈচিত্র্যময় এবং সাহসিকতায় পূর্ণ। তাঁর নিজের নানি ছিলেন না, কিন্তু মায়ের এক খালা তাঁকে সাহসিকতার ট্রেনিং দিতেন। তাঁকে শক্ত করে ধরে কিছুটা উপর থেকে নিচের দিকে ছেড়ে দিয়ে বলতেন, “দেখ খুকি, তোর মেয়েকে কেমন সাহসী বানাচ্ছি?” মা ভয় পেলেও নাজমা আক্তার শিখছিলেন ভয়কে জয় করার কৌশল।
তাঁর বাবা ছিলেন একজন ডাক্তার। তিনি ৬ মাস বয়সেই নাজমা আক্তারকে توয়ালে জড়িয়ে বেনাপোল থেকে যশোর শহরে নিয়ে যেতেন ওষুধ কিনতে এবং মেয়েকে বড় শহর দেখাতে। ১০ মাস বয়সে হাঁটতে শেখা, ১ বছর বয়সে কথা বলা এবং বাবার টেবিলে বসে পড়াশোনা শুরু করা – সবকিছুই ছিল খুব দ্রুত। মাত্র ৪ বছর বয়সে তাঁর অক্ষর জ্ঞান সম্পূর্ণ হয় এবং তিনি স্কুলে ভর্তি হন।
তাঁর বাবা তাঁকে শুধু পড়াশোনাই নয়, সব ধরনের সাহসিকতার কাজ শিখিয়েছেন। ৮ বছর বয়সে এয়ারগান চালানো, ৯ বছরে বাইসাইকেল এবং ১০ বছর বয়সেই মোটরসাইকেল চালানো শিখিয়েছেন। স্কুলের খেলাধুলা এবং অন্যান্য কার্যক্রমে অংশগ্রহণে সবসময় বাবা উৎসাহ দিতেন।
চাচা তাঁকে ঐতিহাসিক এবং জ্ঞানগর্ভ গল্প শুনিয়ে জ্ঞান অর্জন করতে সাহায্য করতেন। বাড়ির একটি মজার নিয়ম ছিল, মাথা সংক্রান্ত যেকোনো খাবার (মাছের মাথা, মুরগির মাথা, হাঁসের মাথা) প্রতিদিন তাঁকে খাওয়ানো হতো, যাতে বুদ্ধি বাড়ে।
মা তাঁকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তিনি নাজমা আক্তারকে শেখাতেন অন্যের জিনিসের উপর লোভ না করতে এবং নিজের ক্ষমতার উপর বিশ্বাস রাখতে। মা সবসময় শ্লোক শোনাতেন, যেমন— “বাহুর বলে বল, ইন্দ্র জলে জল”। আরও কিছু প্রাচীন শ্লোক দিয়ে মা শিখিয়েছেন পরনির্ভরশীলতার কুফল।
নাজমা আক্তার বলেন, “বুঝতেই পারছেন, বাবা-মা এবং গুরুজনরা কত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাকে যোগ্য করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। সেই দোয়া নিয়েই আজ আমি একা সাহসের সাথে সব কাজ করে চলেছি। আজ বাবা-মা, চাচা, নানি কেউ নেই, কিন্তু তাঁদের দোয়া সবসময় আমার সাথে আছে। আর আছেন উপরে আল্লাহ, এবং নিচে আপনারা।”
তিনি পরিশেষে বলেন, “বেনাপোলের উন্নয়নের জন্য এবং মানুষের কল্যাণের জন্য আমি কাজ করতে চাই। আপনারা আল্লাহর কাছে দোয়া করবেন যেন আমি সবসময় ভাল কিছু অর্জন করতে পারি এবং আপনাদের সেবায় নিয়োজিত থাকতে পারি।”
বেনাপোল পৌর নির্বাচনে নাজমা আক্তারের এই দৃঢ় মনোভাব এবং জনসেবার মানসিকতা ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাঁর লড়াকু জীবন এবং সৎ উদ্দেশ্য তাঁকে নির্বাচনের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, বেনাপোলবাসী আগামী নির্বাচনে যোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে নাজমা আক্তারকে বেছে নেন কিনা।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
পাইকগাছায় গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
পাইকগাছায় গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
বাকেরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত কারেন্ট জাল পুড়িয়ে...
বাকেরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত কারেন্ট...
সাপাহারে শিরন্টি ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহজাহান আলীর গণসংযোগ
সাপাহারে শিরন্টি ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহজাহান...
শেরপুর ডপস সদস্যদের মূল্যায়ন পরীক্ষা ও শিক্ষা উপকরণ...
শেরপুর ডপস সদস্যদের মূল্যায়ন পরীক্ষা ও...
শেরপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এমপি রাশেদের...
শেরপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে...
জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমদাদুল হক ইমদাদ: বেনাপোলে বইছে পরিবর্তনের...
জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমদাদুল হক ইমদাদ: বেনাপোলে...