
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সম্ভাব্য অভিঘাত মোকাবিলায় ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রকৃতি-নির্ভর কৃষিবান্ধব অনুশীলন চিহ্নিতকরণ ও ম্যাপিং ফলাফল উপস্থাপন’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর ২০২৫) সকাল ১১টায় তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশন, বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং আইসিমড (ICIMOD)-এর অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রমোটিং জেসি রেসপনসিভ নেচার-বেইসড সলিউশন ফর এনাবলিং রেজিলিয়েন্স ইন চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস অব বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় কৃষিখাতে জরুরি চাহিদা সনাক্তকরণ, লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রকৃতি-নির্ভর কৃষিবান্ধব অনুশীলন নিয়ে পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপন করেন গ্লোবাল মাইন্ড লাইনের সিইও রাইহানুল ফেরদৌস সাহরিন এবং পরিচালক (প্রোগ্রাম) মোহাম্মদ ইলিয়াস।
তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রিপন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুস সত্তার এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মালেক।
এ ছাড়া খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য কংজপ্রু মারমা ও অনিময় চাকমা, দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেন, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থার সদস্যরা কর্মশালায় অংশ নেন।
প্রধান অতিথি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “পাহাড়ে টেকসই কৃষি উন্নয়নে স্থানীয় এনজিওগুলোর ভূমিকা প্রশংসনীয়। কৃষকদের ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি না বদলালে কৃষিখাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মাটির স্বাস্থ্য সন্তোষজনক নয়। এ অবস্থায় কৃষকদের জৈব সার, ট্রাইকো কম্পোস্ট এবং নিমপাতা ও মেহগনীর বীজ ব্যবহার করে বালাই দমন বাড়ানোর পরামর্শ দেন। হাইব্রিড কাসাবা চাষ পাহাড়ি অঞ্চলে মাটি ক্ষয়ের বড় কারণ হয়ে উঠছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিশেষ অতিথি ড. আব্দুস সত্তার বলেন, “পাহাড়ি এলাকায় উপযোগী ফসল নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কম পানি লাগে, উচ্চমূল্যের, পানি-সহনশীল এবং পরিবহনে কম ক্ষতি হয়—এ ধরনের ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন।” তিনি দেশীয় জাতের মাতৃবীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের পরামর্শও দেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তাই প্রকল্পের আওতায় ঝরনা/স্প্রিং নিয়ে কাজ করার উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহাদাত হোসেন বলেন, দীঘিনালা উপজেলায় সবজি উৎপাদন বাড়লেও তামাকের বিস্তার কমানো যাচ্ছে না। পাশাপাশি হাইব্রিড কাসাবা ও কচুর অতিরিক্ত চাষে পাহাড়ি মাটির ক্ষয় বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা টেকসই, জলবায়ুবান্ধব, প্রকৃতি-নির্ভর কৃষি চর্চা বিস্তারে যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির...
দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবারও বাস পড়ল নদীতে
দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবারও বাস...
নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি রাস্তায় রোপণ হবে হাজারো কৃষ্ণচূড়ার চারা
নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি রাস্তায় রোপণ হবে হাজারো...
শেরপুরে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু
শেরপুরে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু
গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা
গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা
জেলা ইমাম সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত
জেলা ইমাম সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত