জাতিসংঘে একই দিনে বক্তৃতা দেবেন ড. ইউনূস, মোদি ও শেহবাজ

প্রকাশিত: ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ , ২৫ আগস্ট ২০২৫, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 9 months আগে

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে একই দিনে বক্তৃতা দেবেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, এ বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে ২৬ সেপ্টেম্বর তারা ভাষণ দেবেন। জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষ যে প্রাথমিক বক্তৃতার সূচি প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে—সেদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি সকালে বক্তব্য রাখবেন, আর বিকেলে বক্তব্য রাখবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ, একই সেশনে থাকবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসও।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনব্যাপী যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা অঞ্চলকে পারমাণবিক সংঘাতের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের নেতার একই দিনে বক্তব্য দেওয়া কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জাতিসংঘে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক ফাতেমি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে কাশ্মির ইস্যু এবং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা প্রসঙ্গ তুলবেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ৯ সেপ্টেম্বর। তবে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক চলবে ২৩ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বরাবরের মতো এবারও প্রথম বক্তা হবেন ব্রাজিল, এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেবেন।

এই বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে: “একসাথে ভালো: শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকারের পথে ৮০ বছর ও তারও বেশি”। এর মধ্যেই রয়েছে জলবায়ু সম্মেলন (২৪ সেপ্টেম্বর) এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ দিবস উপলক্ষে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক (২৬ সেপ্টেম্বর)।

বিশ্বব্যাপী চলমান ইসরায়েল-গাজা সংঘাত, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক উত্তেজনা—সব মিলিয়ে জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনকে বিশেষভাবে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

একজন অভিজ্ঞ পাকিস্তানি কূটনীতিক বলেন, “কাশ্মির সমস্যার ন্যায়ভিত্তিক সমাধান ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে শান্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকারের প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে না।”