জুনান-রুবেল হত্যার বিচার দাবিতে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

প্রকাশিত: ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ , ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 weeks আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি শহরের নারানখিয়া ও স্বনির্ভর এলাকায় নিহত জুনান চাকমা ও রুবেল ত্রিপুরার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ এবং হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবিও জানানো হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খাগড়াছড়ির জামতলী এলাকায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়িবহর গিরিফুলের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় নিহতদের পরিবারের সদস্য, আহত ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিটি দেওয়া হয়। এতে স্বাক্ষর করেন নিহত জুনান চাকমার মা রূপসা চাকমা, নিহত রুবেল ত্রিপুরার মা নিরন্তা ত্রিপুরা এবং আহত নলেজ চাকমা ও পহেল দেওয়ান।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। প্ল্যাকার্ডে জুনান-রুবেল হত্যার বিচার, ১৯ সেপ্টেম্বরের ঘটনার তদন্ত, আহতদের ক্ষতিপূরণ এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপি দেওয়ার সময় প্রতিমন্ত্রী গাড়িতে অবস্থান করছিলেন। পরে নিহত জুনান চাকমার মা রূপসা চাকমা তাঁর সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানালে প্রতিমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। রূপসা চাকমা তাঁর সন্তান হত্যার বিচার দাবি করে এ বিষয়ে কত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা জানতে চান।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের আশ্বাস দেওয়া ঠিক হবে না। তিনি ঢাকায় ফিরে বিষয়টি নিয়ে আবেদন করার কথা জানিয়ে বলেন, তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্মারকলিপিতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে সংঘটিত বিভিন্ন সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। এতে দাবি করা হয়, ওই সময় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে এবং ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে নারানখিয়া ও স্বনির্ভর এলাকায় গুলির ঘটনায় জুনান চাকমা ও রুবেল ত্রিপুরা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন। এসব ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়নি বলেও স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়।

স্মারকলিপিতে জুনান চাকমা ও রুবেল ত্রিপুরার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, আহত ও মামলার হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে ব্যবস্থা, হামলা-অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিদাতারা এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর