ঝগড়া”হ’ত্যাসহ তিন মা’মলা”কালিকচ্ছ বাজারে লুটতরাজ ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ী

প্রকাশিত: ১১:৩৭ অপরাহ্ণ , ৪ জুলাই ২০২৬, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মো. তাসলিম উদ্দিন সরাইল(ব্রাহ্মণবাড়িয়া): সরাইলের কালীকচ্ছ বাজারে দুই গ্রামের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও লুটতরাজের ঘটনা ঘটে।

ঝগড়া সমাজের ভীষণ ক্ষতি করে। এটি মানুষের মধ্যে হিংসা ও ঘৃণা বাড়ায়। এর ফলে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শান্তি নষ্ট হয়।গ্রাম্য দাঙ্গা (ঝগড়া)সঙ্ঘাত, হানাহানি, অপতৎপরতা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এসব কাজে কোনো প্রকার সহযোগিতা করা, দূর থেকে কোনো প্রকার ইন্ধন যোগানো, বিভেদের পালে হাওয়া যোগানো কুরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিতে জঘন্য অপরাধ।

সংগঠিত তিনদিনের কালিকচ্ছ ধরন্তি ও সূর্যকান্দি ঝগড়ায়
সরাইল থানায় হত্যাসহ তিনটি মামলা হয়েছে। আজ শনিবার সরাইল থানা পুলিশ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারে এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছেন।

সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ বাজারে ধরন্তী ও সূর্যকান্দি গ্রামের মধ্যে টানা তিন দিন ঝগড়া হয়। রোববার রাতে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষে ধরন্তী গ্রামের মো. হাদিম মিয়া (৫০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সরাইল থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ ঝগড়া চলা কালিন ওসিসহ অনেক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।এ বিষয়ে পুলিশবাদী হয়ে সরাইল থানায় মামলা হয়েছে। বাজারে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে লুটতরাজে মামলা হয়েছে। তিনদিনের ঝগড়ায় বাজারের অনেক ব্যবসায়ীর দোকানে লুটতরাজের ঘটনা ঘটেছে।

লুটতরাজের ছবি এবং ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। একাধিক ব্যবসায়ের সাথে কথা বললে জানা যায়।লুটতরাজে ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ করেছেন। কালিকচ্ছ বাজারের ঝগড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের এখন চোখে পানি ” আমরা কি দোষ করেছি আমরা তো ঝগড়া করি নাই। আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মাল নগদ টাকা সবকিছু লুটতরাজ করে নিয়ে গেছে। আমরা এখন পথে বসে গেছি।

কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, আমাদের প্রত্যেকটি দোকান থেকে ২০থেকে ২৫ লক্ষ টাকার মালামাল লোট করে নিয়ে গেছে। অনেকের কোটি টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান ঝগড়া নিরসন কমিটি বাজারে
পরিদর্শনে গেলে।

গতকাল ঝগড়া নিরসন কমিটি কালিকচ্ছ বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠান দেখেছেন এবং তাদের সাথে কথা বলেছেন।ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বলেন, সংঘর্ষে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে জোর দাবি করেন।

তারা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বাজার লুট তরাজের সাথে জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করতে অনুরোধ জানান। সংঘর্ষের কারণে বাজারে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে ঝগড়ার পর এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারে,অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং পরবর্তীতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অভিযান পরিচালিত হয়।

এ বিষয়ে কথা হয় সরাইল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি)মো.মনজুর কাদের ভূঁইয়া তিনিএপ্রতিনিধি’ কে জানান,এলাকা এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশীয় অস্ত্রও ঝগড়া নিরসনে পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ওসি বলেন,পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।ওসি আরোও বলেন,ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে লুটতরাজে জড়িত’দের ভিডিও ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হবে।

তিনি বলেন, দুষ্কৃতিকারীরা যত প্রভাবশালী হোক তাদের”কে আইনের আওতায় আনা হবে। চিহ্নিত দুষ্কৃতিকারী’রা যেখানেই থাকুক তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর