
শাহরিয়ার মিল্টন , শেরপুর : শেরপুরের ঝিনাইগাতীর দক্ষিণ দাড়িয়ারপাড় এলাকার পাগলা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ৭৫ মিটার সেতুটির নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের পরও তা শেষ হয়নি। সেতুর নির্মাণস্থলে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা লোহার রডে মরিচা ধরেছে। এক পাশে নির্মিত অ্যাবার্টমেন্টের বিভিন্ন অংশে শ্যাওলা জমেছে। নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে সেতুটির নির্মাণকাজ থেমে আছে। বর্তমানে নদী পারাপারে কোথাও নৌকা, আবার কোথাও বাঁশের তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোই ভরসা। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন, রোগী ও গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত- সব ক্ষেত্রেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস (এসইউপিআরবি) প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের আইডিএ অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর শেরপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ধ্রুব ট্রেড এজেন্সি ৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ পায়। সেই থেকেই কাজের সময় গণনা শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ১১ জুনের মধ্যে তা শেষ করার কথা ছিল।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করে ঠিকাদার সেতুর পাইল ও এক পাশের অ্যাবার্টমেন্টের কিছু কাজ করেই নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। পরে কয়েক দফা সময় বাড়ানো এবং একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও কাজ শুরু না হওয়ায় দরপত্র বাতিল করে এলজিইডি।
দক্ষিণ দারিয়ারপাড়ের সবজি চাষি সুলতান মিয়া ও মোখলেছুর রহমান জানান, শুকনো মৌসুমে ঘোড়ার গাড়িতে করে গ্রামের দিক থেকে সবজি নদীর পাড়ে আনা হয়। এরপর খাঁচা বা বস্তা মাথায় নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে অপর পাশে নিতে হয়।
পরে পিকআপ বা ট্রাকে করে সেসব পণ্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। বাগেরভিটা গ্রামের কৃষক নুরুজ্জামান ও মোহনগঞ্জের নূর আলী বলেন, এক মণ সবজি নদীর এক পাশ থেকে অন্য পাশে নিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়।
শুধু কৃষক নয়, সেতুর অভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় শিক্ষার্থীরাও। বাঁশের সাঁকো পেরিয়েই তাদের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। সেতুটি না থাকায় দক্ষিণ দারিয়ারপাড় ও উত্তর কান্দুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে।
ধানশাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মিত হলে এলাকার হাজারো কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারজাত করতে পারবেন এবং ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি ঝিনাইগাতী থেকে শ্রীবরদীর ভটপুর-তাতীহাটি হয়ে কুড়িগ্রামের রৌমারী পর্যন্ত যোগাযোগব্যবস্থাও আরও সহজ হবে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী অনতু বল জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ করতে না পারায় দরপত্র বাতিল করা হয়েছে।
ঠিকাদার প্রায় ২০ শতাংশ কাজের বিল দাখিল করলেও তা এখনও পরিশোধ করা হয়নি। নতুন করে প্রাক্কলন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর নতুন করে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
পাইকগাছায় গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
পাইকগাছায় গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
বাকেরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত কারেন্ট জাল পুড়িয়ে...
বাকেরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত কারেন্ট...
সাপাহারে শিরন্টি ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহজাহান আলীর গণসংযোগ
সাপাহারে শিরন্টি ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহজাহান...
শেরপুর ডপস সদস্যদের মূল্যায়ন পরীক্ষা ও শিক্ষা উপকরণ...
শেরপুর ডপস সদস্যদের মূল্যায়ন পরীক্ষা ও...
শেরপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এমপি রাশেদের...
শেরপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে...
জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমদাদুল হক ইমদাদ: বেনাপোলে বইছে পরিবর্তনের...
জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমদাদুল হক ইমদাদ: বেনাপোলে...