​ডিজিটাল মাধ্যমে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সুমি খাতুন

প্রকাশিত: ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ , ৩০ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীন:-বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কেবল বিনোদনের ক্ষেত্র নয়, এটি যে মানবিক সেবা ও সামাজিক পরিবর্তনের এক অনন্য হাতিয়ার হতে পারে, তা বারবার প্রমাণ করে চলেছেন উদীয়মান ও জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সুমি খাতুন। চিরাচরিত কন্টেন্টের বাইরে গিয়ে ব্যতিক্রমী ও জনকল্যাণমুখী কাজ দিয়ে তিনি ইতোমধ্যে জয় করে নিয়েছেন সাধারণ মানুষের হৃদয়।

​সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সুমি খাতুন প্রতিনিয়ত তুলে ধরছেন প্রান্তিক মানুষের সুখ-দুঃখের গল্প। সরজমিনে ঘুরে ঘুরে অসহায়, অসুস্থ ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই যেন তার মূল ব্রত হয়ে উঠেছে।

​বেনাপোলের মেয়ে সুমি খাতুন। বয়স ২৮। জন্মস্থান বেনাপোল পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের ভবারবেড় গ্রামে। পিতা মৃত কালু মেম্বর। তবে কেবল এক সাধারণ গৃহিনী হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেন নি সুমি। নিজের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে আজ তিনি হয়ে উঠেছেন একজন সফল কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, ট্রাভেল ব্লগার এবং সাংবাদিক। তাঁর এই বহুমুখী প্রতিভা এবং সমাজসেবামূলক কাজ বেনাপোলের মানুষকে গর্বিত করেছে।

​সুমি খাতুন এসএসসির গণ্ডি পেরিয়ে কন্টেন্ট ক্রিয়েশনে পা রাখেন। ধীরে ধীরে পরিবারের সহায়তায় ট্রাভেল ব্লগিং শুরু করেন এবং একজন দক্ষ রিপোর্টার হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর ভিডিওগুলিতে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন, যা মানুষকে মুগ্ধ করে। তাঁর ফেসবুক পেজে বর্তমানে ১ লাখ ৪৭ হাজার ফলোয়ার রয়েছে। ​সুমি খাতুন একজন লেডি বাইকার হিসেবেও পরিচিত।

অসচ্ছল পরিবার, অসুস্থ রোগী এবং বয়স্ক মানুষের শারীরিক ও আর্থিক দুর্দশার কথা নিজের মাধ্যমে তুলে ধরে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি।

এতিমখানা ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার বিতরণ, শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানোর মতো ইতিবাচক কাজ নিয়মিত করে যাচ্ছেন।

কেবল মানুষের সেবাই নয়, রাস্তার অবুঝ ও সুবিধাবঞ্চিত পশুপাখিদের নিয়মিত খাবার দেওয়া ও যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে এক অনন্য মানবিকতার নজির স্থাপন করেছেন সুমি।

স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা, প্রাকৃতিক কিংবা সামাজিক দূর্যোগ এবং জনকল্যাণমূলক বিষয় নিয়ে গঠনমূলক উপস্থাপনা ও সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন দর্শকদের কাছে। ​

একটি মোটরবাইক নিয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়ানো সুমি খাতুন আজ অনেক মানুষের ভরসার স্থান। তার কাজের ধরণ ও স্পষ্টভাষী উপস্থাপনা তাকে দিন দিন জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যাচ্ছে। ​

নেটিজেনদের মতে, প্রচারসর্বস্ব কন্টেন্টের ভিড়ে সুমি খাতুনের মতো সৃষ্টিশীল ও মানবিক কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা সমাজের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে আনছেন। ভবিষ্যতে তিনি আরও বড় পরিসরে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারবেন—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় ও তার অনুরাগীদের।

​সুমি খাতুনের বহুমুখী প্রতিভা এবং সমাজসেবামূলক কাজ বেনাপোলের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর সাফল্যে এলাকার মানুষ গর্বিত। সুমি খাতুন উদাহরণ দেখিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোনো ক্ষেত্রেই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর