
ময়মনসিংহের ত্রিশালে একজন ডেন্টাল সার্জনের নাম ও ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) ব্যবহার করে ভুয়া চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ডেন্টাল মালিক জাহাঙ্গীর ও নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি অন্য ডাক্তারের পরিচয় ও সুনামকে পুঁজি করে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। এতে সাধারণ রোগীরা যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি পড়ছেন গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ত্রিশাল পৌর শহরের মহিলা কলেজ রোড এলাকায় অবস্থিত ‘জাহাঙ্গীর ডেন্টাল কেয়ার এন্ড লাইব্রেরি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে বসে নিয়মিত রোগী দেখছেন নুরুল আমিন।
যদিও তিনি একজন ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারী, তবে চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি বিডিএস (ডেন্টাল সার্জন) চিকিৎসক ডা. শাহরিয়া জাহান সিনথির নাম ও অফিসিয়াল প্রেসক্রিপশন প্যাড ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীর ডেন্টাল কেয়ার এন্ড লাইব্রেরির ভেতরে একটি অস্থায়ী চেম্বার তৈরি করে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। দাঁতের বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের সামনে নিজেকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপন করেন নুরুল আমিন।
ব্যবস্থাপত্রে ডা. শাহরিয়া জাহান সিনথির নাম ব্যবহার করা হলেও রোগী পরীক্ষা, পরামর্শ প্রদান এবং ওষুধ লিখে দেওয়ার কাজ করেন তিনি নিজেই।
এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার রোগীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী শাহজাহান কবির বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম এখানে একজন যোগ্য ডেন্টাল সার্জন রোগী দেখেন। পরে জানতে পারলাম, যিনি চিকিৎসা দিচ্ছেন তিনি আসল চিকিৎসক নন। অন্যের নাম ও প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।”
চিকিৎসক মহলের মতে, অন্য কোনো চিকিৎসকের নাম ও প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করে চিকিৎসা দেওয়া গুরুতর অপরাধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন ডিপ্লোমাধারীর পক্ষে সার্জন পরিচয়ে জটিল রোগ নির্ণয় বা ওষুধ ব্যবস্থাপত্র দেওয়া আইনসঙ্গত নয়। এ ধরনের অননুমোদিত চিকিৎসার কারণে রোগীদের স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি, সংক্রমণ বা জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল আমিন বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। জাহাঙ্গীর ম্যাডামকে চেম্বারে বসার কথা বলেছেন। তার প্রেসক্রিপশন কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বললে ভালো হয়। তিনিই এই ডেন্টাল প্রতিষ্ঠানের মালিক।”
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর ডেন্টাল কেয়ার অ্যান্ড লাইব্রেরির মালিক জাহাঙ্গীর বলেন, “সিনথি ম্যাডাম আমার চেম্বারে বসার কথা ছিল তাই তার প্রেসক্রিপশন প্যাড আমার কাছে ছিল। ম্যাডামের অনুমতি নিয়েই আমি তার ব্যবহৃত প্রেসক্রিপশন প্যাড ব্যবহার করতাম।বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার পর তার(ম্যাডামের) সঙ্গে কথা বলে সব প্যাড ফেরত দিয়েছি।”
এ বিষয়ে ডা. শাহরিয়া জাহান সিনথি বলেন, “আমার অনুমতি ছাড়া কেউ আমার প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করতে পারেন না। বিষয়টি আমি জেনেছি এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”
মহিলা কলেজ রোডের মতো ব্যস্ত এলাকায় প্রকাশ্যে এ ধরনের কার্যক্রম চলতে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
গোয়াইনঘাটে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
গোয়াইনঘাটে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
পূজায় সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া...
পূজায় সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করলে কঠোর...
সরকারি সেবার মান উন্নয়নে নালিতাবাড়ীতে গণশুনানি অনুষ্ঠিত
সরকারি সেবার মান উন্নয়নে নালিতাবাড়ীতে গণশুনানি...
শেরপুরে প্রতিবন্ধীদের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ
শেরপুরে প্রতিবন্ধীদের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ
শেরপুরে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডির চ্যাম্পিয়ন নকলা উপজেলা কাবাডি...
শেরপুরে কমিউনিটি পুলিশ কাবাডির চ্যাম্পিয়ন নকলা...
মৌলভীবাজারে পাহাড়-টিলা কেটে গড়ে উঠছে রিসোর্ড, কোন অনুমোদন...
মৌলভীবাজারে পাহাড়-টিলা কেটে গড়ে উঠছে রিসোর্ড,...