
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ তুলে দুই শিশুকে নির্মমভাবে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক চুরির অপবাদ দিয়ে দুই শিশুকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করছে। এক পর্যায়ে একজন শিশুকে জোর করে পুকুরে নামিয়ে বারবার পানিতে চুবানো হয়।
অপর শিশুকে পুকুরে নামাতে গেলে তাদের একজনের পায়ে ঝাপটে ধরে সে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আকুতি জানালেও তাকে টেনে-হিঁচড়ে পানিতে নামিয়ে চুবানো হয়।
নির্যাতনের আরও ভয়াবহ চিত্রে দেখা যায়, শিশুদের গলা চেপে ধরে শূন্যে তুলে আছাড় মারতে মারতে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়। ব্যর্থ হয়ে তাদের পুকুরপাড়ের বাথরুমের নোংরা ও পঁচা পানি জোর করে খাওয়ানো হয়।

এতে শিশুরা বমি করতে থাকে এবং বারবার চিৎকার করে প্রাণভিক্ষা চাইতে থাকে। এ সময় শিশুদের বলতে শোনা যায়, “ভাইরে, বড় ভাইগো, মারিস না।” একপর্যায়ে তারা নিস্তেজ হয়ে পড়লেও নির্যাতনকারীদের কোনো দয়া দেখা যায়নি। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, সেখানে উপস্থিত কিছু যুবক উদ্ধার করার পরিবর্তে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনাটি গত মাসের ২৭ তারিখ শুক্রবার ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা এলাকায় ঘটে। নির্যাতনের শিকার দুই শিশু সহোদর এবং তারা অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাদের বাবা দিনমজুর এবং মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পরিবারটি এতদিন আইনি পদক্ষেপ নিতে সাহস পায়নি।
ঘটনার এক সপ্তাহ পর, আজ শুক্রবার ভুক্তভোগী শিশুদের ফুফাতো বোনের স্বামী মো. ফজলুল হক বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানান। তবে এ ঘটনা দামাচাপা দেওয়ার জন্য এলাকার কয়েকজন আপস মিমাংসা করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও জানা যায়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, একই এলাকার সুজন মিয়া, মাসুমসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি মোবাইল ফোন চুরির সন্দেহে আরফাত ও রিয়াদ নামের দুই শিশুকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালায়। তাদের শরীরে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা এবং টয়লেটের ময়লা পানি খাওয়ানোর মতো নিষ্ঠুর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের এক পর্যায়ে শিশু দুজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এই বিষয়টি দামাচাপা দেওয়ার জন্য একটি পক্ষ তুমুল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবি এটি দামাচাপা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানান ওসি ফিরোজ হোসেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এটি পরিকল্পিত নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা। তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সচেতন মহল এ ধরনের নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন বলেন, “এখনো অভিযোগ পায়নি, তবে ব্যবস্থা নিচ্ছি আমরা। প্রধান অভিযুক্তের ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসছি।
ফজলুল হক নামে একজনের অভিযোগের কপি আমি(প্রতিবেদক) হাতে পেয়েছি জানালে তিনি কথা পরিবর্তন করে বলেন, একটা অভিযোগ আমরা পাইছি। যাচাই-বাছাই করতেছি। তবে ভিডিওর ভিত্তিতে আমরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত চালাচ্ছি এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, “এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত মাসুমের ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান।”
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির...
দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবারও বাস পড়ল নদীতে
দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবারও বাস...
নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি রাস্তায় রোপণ হবে হাজারো কৃষ্ণচূড়ার চারা
নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি রাস্তায় রোপণ হবে হাজারো...
শেরপুরে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু
শেরপুরে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু
গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা
গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা
জেলা ইমাম সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত
জেলা ইমাম সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত