ত্রিশাল এক বৃদ্ধার মরাদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ

প্রকাশিত: ৪:২৬ পূর্বাহ্ণ , ১৯ আগস্ট ২০২৬, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে নিখোঁজের পর জলাশয় থেকে আব্দুস সালাম ওরফে সালু (৭২) নামে এক বৃদ্ধের মরাদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকাল নয়টার সময় ত্রিশাল থানা পুলিশ খবর পেয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত আব্দুস সালাম ফুলবাড়িয়া উপজেলার আছিম পাটুলি গ্রামের খামখেয়ালি বাজারসংলগ্ন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি মৃত হযরত আলীর ছেলে।

নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯ টার দিকে তার স্ত্রীর বড় বোনকে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন আব্দুস সালাম। এ সময় তিনি তার স্ত্রীর বড় বোন  খোদেজা বেগমকে নিতে আনুমানিক ১১টার দিকে মঠবাড়ী ইউনিয়নের অলহরী দুর্গাপুর গ্রামের ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন নয়াবাড়িতে আসেন। সেখানে কয়েকঘন্টা অবস্থান করে দুপুরে তিনি তাঁর স্ত্রীর বড় বোনকে সঙ্গে নিয়ে ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে যান। সেখান থেকে ডাক্তার দেখিয়ে ওইদিন রাত সোয়া বারোটার দিকে নয়াবাড়ির পাশের রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে যায়। পরে ওইখান থেকে তিন কিলোমিটার দুরের পথ পোড়াবাড়ি বাজারের মঠবাড়ী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ গেইট সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত কচুরিপানায় ভরপুর জলাশয়ে পরের দিন মঙ্গলবার সকালে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়।

রাত ১২টার দিকে সর্বশেষ মোবাইল ফোনে তাঁর ছেলের সঙ্গে কথা হয় বলে জানিয়েছেন তার মেজু ছেলে। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ত্রিশাল উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি বাজার এলাকায় মঠবাড়ী ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গেইটের সামনে কচুরিপানায় ভরপুর একটি জলাশয়ের এক পাশে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে সকাল ৯টার দিকে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ত্রিশাল সার্কেল অফিসার ইস্রাফিল হাসান ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মনসুর আহাম্মদ।

তবে কীভাবে ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতের নাতনী জেসমিন বলেন, “নানীর বাড়িতে দেখাশোনা করার মতো তেমন কোনো লোক না থাকায় কয়েকদিন ধরে নানী আমাদের এখানেই থাকতো। নানীকে ডাক্তার দেখাতে নানা(নানীর বোন জামাই) সকাল ১১ টার দিকে আমাদের এখানে আসেন। পরে খাওয়াদাওয়া করে একটু ঘুমিয়ে দুপুরের দিকে আমরা নানীকে নিয়ে ময়মনসিংহে ডাক্তারের কাছে যাই। ডাক্তার দেখিয়ে ফিরতে ফিরতে অনেক রাত হয়ে  যায়। পরে ১২ টা ১২ এর দিকে নানা আমাদের রাস্তার পাশে নামিয়ে দিয়ে ক্ষেতে রোয়া লাগানোর কথা বলে চলে যায়। আমরা থাকার জন্য অনেক জোরাজুরি করি কিন্ত তিনি রোয়া লাগাতে হবে বলে চলে যায়। পরে সকালে শুনি উনার মারা যাওয়ার কথা। আমাদের কথায় থাকলে তো আজ আর এ দৃশ্য দেখা লাগতো না বলে আফসোস করতে থাকে সে।

নিহতের মেজো ছেলে শাজাহান বলেন, ” আমাদের জানামতে আমার বাবার কোনো শত্রু নেই। তাকে হইতো অল্প কয়টা টাকার লোভেই মাইরা ফেলছে। আমরা আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মনসুর আহাম্মদ বলেন, “বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃতদেহের গায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে। আশা করি দ্রুতই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর