দিঘীনালায় ৩০০ বন্যাদুর্গত পরিবার পেল নগদ সহায়তা ও হাইজিন কিট

প্রকাশিত: ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ , ২৮ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০টি পরিবারের মধ্যে শর্তহীন বহুমুখী নগদ সহায়তা (এমপিসিজি) ও হাইজিন কিট বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) বিকেলে দীঘিনালা উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সহায়তা বিতরণ করা হয়।

স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশের অর্থায়নে এবং কারিতাস বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত Alert B075: Rainfall Induced Flash Flooding and Landslide in Eastern Bangladesh প্রকল্পের আওতায় জাবারাং কল্যাণ সমিতি এ কার্যক্রম পরিচালনা করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রোগ্রাম পরিচালক বিনোদন ত্রিপুরা। প্রধান অতিথি ছিলেন মেরুং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মীনা চাকমা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সমীরণ চাকমা, দীঘিনালা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সোহেল রানা এবং দীঘিনালা থানার প্রতিনিধি নায়েক হাবিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৮ হাজার টাকা করে শর্তহীন বহুমুখী নগদ সহায়তা এবং একটি করে হাইজিন কিট প্রদান করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মীনা চাকমা বলেন, দুর্যোগের সময় মানবিক সহায়তা বিতরণে কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ নেই। পাহাড়ি ও বাঙালি—সব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যেন প্রকৃত প্রয়োজনের ভিত্তিতে সমান গুরুত্বের সঙ্গে সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পরিষদ কাজ করছে।

তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। এজন্য ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম, পক্ষপাত কিংবা দুর্নীতির সুযোগ রোধে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

বক্তারা বলেন, দুর্যোগের ক্ষতি শুধু ঘরবাড়ি বা সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি মানুষের জীবিকা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামগ্রিক জীবনযাত্রার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।

তাই দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি চাহিদা পূরণ, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে নগদ সহায়তা ও হাইজিন কিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

একই সঙ্গে দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলা, আগাম প্রস্তুতি জোরদার এবং স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, মেরুং ইউনিয়নে এ সহায়তা বিতরণের মধ্য দিয়ে Alert B075 প্রকল্পের কার্যক্রমের সমাপ্তি হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী ও মেরুং এবং খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেরাছড়া ও কমলছড়ি—এই চারটি ইউনিয়নের মোট ৮০০টি বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে শর্তহীন বহুমুখী নগদ সহায়তা ও হাইজিন কিট প্রদান করা হয়েছে।

বক্তারা মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশ, কারিতাস বাংলাদেশ ও জাবারাং কল্যাণ সমিতির যৌথ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে পার্বত্য অঞ্চলের দুর্যোগপ্রবণ জনগোষ্ঠী ভবিষ্যতের সংকট আরও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর