
নওগাঁ আস্তানমোল্লা কলেজে ১০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় মেন গেট টপকে ক্যাম্পাসের প্রবেশ করেন উক্ত কলেজের সদ্য পদত্যাগকারী অধ্যক্ষ মাহাবুবুর রহমানের ভাড়া করা গুন্ডা বাহিনী।
এ সময় ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী ছদ্মবেশে স্থানীয় টোকাই শ্রেণীর ছেলেরা কলেজে অধ্যক্ষের প্রধান কক্ষের তালা ভেঙ্গে জোর পূর্বক সাবেক অধ্যক্ষকে কক্ষে ঢোকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ভিডিও ধারণ করাকালীন সময়ে কিছু শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ ও পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মোবাইল ভেঙ্গে ফেলে তাকে হেনস্তার চেষ্টা করেন এই বাহিনীর সদস্যরা।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনী, ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশের টিম এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। প্রশাসনের উপস্থিতি সাপেক্ষে উক্ত কলেজে ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল কাফির শরীরে হাত তোলার চেষ্টা করলে প্রশাসন সাবেক অধ্যক্ষে স- সম্মানে কলেজ থেকে বের করে দেন।
এর আগে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহীনা আক্তার বেবির মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করলে মোবাইল কেড়ে নিয়ে মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন। পরবর্তীে মোবাইলে থাকা সবকিছু ডিলিট করে দেন গুন্ডা বাহিনীর সদস্যরা।
উল্লেখ্য গত ২১ আগষ্ট উক্ত কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের নানান দূর্নীতির চিত্র তুলে ধরে আন্দোলনে নামেন। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবীতে সমর্থন জানান কলেজের সকল শিক্ষক এবং কর্মচারিবিন্দু। আন্দোলনের তোপের মুখে পড়ে অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করেন।
এরপর গত ২ এ সেপ্টেম্বর জেলার এডিসি সোহেল রানার সভাপতিত্বে সকল শিক্ষক কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে কলেজের সার্বিক সহোযোগিতায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে বাংলা ডিপার্টমেন্টের বিভাগীয় প্রধান শাহীনা আক্তার বেবিকে নিয়োজিত করার লিখিত প্রস্তাব গৃহীত হয়।
এ বিষয় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষে শাহীন আক্তারের কথা হলে তিনি জানান আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে এডিসি স্যারের উপস্থিতে সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় লিখিত প্রস্তাব গৃহীত হয়। এরপর গত ৮ দিনে আমি কলেজের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করতেছি।
ঠিক এই সময় কলেজের সব পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো। এর মধ্যেই আজ সাবেক অধ্যক্ষ মোহদয় কলেজ কিছু স্থানীয় বকাটে ছেলে ও বহিরাগত কিছু শিক্ষার্থীদের নিয়ে কলেজে প্রধান ফটকে জোর পূর্বক ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এরপর গেট টপকে ভিতরে প্রবেশ করে গেট খুলে দিলে সাবেক প্রেন্সিপাল ভিতরে প্রবেশ করেন।
এরপর মোবাইলে ভিডিও করা কিছু শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত উঠান এই বকাটে ছেলেরা। ইট নিয়ে সাবেক অধ্যক্ষ প্রেন্সিপালের কক্ষের তালা ভাঙ্গার চেষ্টা করেন। এই সময় আমি ভিডিও ধারণা করলে আমার ফোন কেঁড়ে নিয়ে সব ভিডিও ডিলিট করে মোবাইল ফেলে দেন। সাবেক অধ্যক্ষ রুমের চাবি নেওয়ার জন্য আমায় হেনস্তা করেন।
এরপর আমি অন্য এক শিক্ষকের ফোন নিয়ে এডিসি স্যারকে ফোন দিলে সেনাবাহিনী, পুলিশ, ডিবি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন এবং তাকে কলেজ থেকে বের করে দেন।
তিনি আরো বলেন, একজন শিক্ষিত মানুষ তিনি কিভাবে শিক্ষাঙ্গনে এই মতো তান্ডব পরিচালনা করতে পারেন। আমরা এই বিষয় এ একটি লেখিত অভিযোগ করেছি। আগামীতে এমন পরিস্থিতি যাতে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর না হয়।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান আসামি আবু...
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান...
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের আমন্ত্রণে বিরল...
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের...
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ বাবাকে ‘মিথ্যাবাদী’...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ...
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ...