নেত্রকোণায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে পুড়ল ৯ দোকান ও বসতঘর

প্রকাশিত: ১২:০৪ অপরাহ্ণ , ৮ আগস্ট ২০২৬, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

নেত্রকোণা শহরের বড়বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ছয়টি দোকান ও তিনটি বসতঘর পুড়ে গেছে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও আগুন নেভাতে গিয়ে তিনজন ফায়ার সার্ভিস সদস্য আহত হয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড়বাজার এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে নেত্রকোণাসহ আশপাশের স্টেশন থেকে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, দুই ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পরিচন্নতার কাজ চলছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসন থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। নেত্রকোণা-২ আসনের সংসদ সদস্য জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক ও নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালী অগ্নিকাণ্ড স্থল পরিদর্শন করে তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

এসময় জেলা পরিষদের প্রশাসক এডভোকেট মো. নুরুজ্জামান নুরুসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন নেভানোর সময় নেত্রকোণা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খানে আলম খানসহ তিন সদস্য আহত হন। তাঁদের নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, তাঁদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বড়বাজারের সুচিত্রা স্টোর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত পাশের দোকান ও বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সুচিত্রা স্টোর, উর্তি স্টোর, মজুমদার ইলেকট্রনিক্স, একটি জুতার দোকান, একটি সিরামিকসের দোকানসহ মোট ছয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে যায়।

এছাড়া প্রান্ত সাহা, শুভ সাহা ও লিটন চৌধুরীর আধাপাকা টিনশেড বসতঘর আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে কয়েক কোটি টাকার মালামাল ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

তবে নেত্রকোণা ফায়ার সার্ভিসের ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্যে দেড় কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেত্রকোণা ফায়ার স্টেশন অফিসার খানে আলম খান।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর